বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় দেশরত্ন শেখ হাসিনা যে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেছেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আজ ছাত্রসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেই নির্দেশনাকে সংগ্রামের মন্ত্র হিসেবে ধারণ করেছে। বঙ্গবন্ধুতনয়ার এই আহবান আমাদের সামনে নতুন পথরেখা এঁকে দিয়েছে। যে রাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে রাখা হয়, যেখানে শিক্ষকরা অপমানিত হন, যেখানে আইনের শাসন পদদলিত, সেই অন্ধকার ভেঙে আলো ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে ছাত্রলীগ আবারও সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ অঙ্গীকার করছে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তাদের ন্যায্য অধিকার, সম্মান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে দিতে ছাত্রলীগ কোনো ভয়-হুমকি, দমন-পীড়নের কাছে মাথা নত করবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুতনয়া শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশনা দিয়েছেন যে এই অবৈধ সরকারের দানবীয় শাসনে যারা শিক্ষা জীবন থেকে বঞ্চিত হয়েছে, বহিষ্কার-সনদ বাতিলসহ অমানবিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের ছাত্রত্ব, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এ নির্দেশকে নৈতিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করছে। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন তরুণসমাজকে আরও পরিশীলিত, আধুনিক, মার্জিত ও দায়িত্বশীল চরিত্রে গড়ে ওঠার জন্য, এবং শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকদের অধিকার ও সম্মান সুরক্ষিত রাখার যে বার্তা দিয়েছেন ছাত্রলীগ তা গভীর শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের সঙ্গে পালন করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্খার আপসহীন ঠিকানা, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুখ-দুঃখে, সংকটে-সংগ্রামে, আশঙ্কায়-আশায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর। ছাত্রলীগ এই নির্দেশনাকে সংগ্রামের অদম্য প্রতিজ্ঞা হিসেবে ধারণ করছে। কারণ সাধারণ শিক্ষার্থীর কণ্ঠই ছাত্রলীগের শক্তি; শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের রোডম্যাপই আন্দোলনের কাঙ্খিত অভিমুখ।
এ সময় দেশরত্ন শেখ হাসিনা বর্তমান দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরতে উল্লেখ করেন, একজন অষ্টম শ্রেণির কিশোর পর্যন্ত আজ অবৈধভাবে গ্রেফতার হয়, তার ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হয়; অথচ এতদিন যারা শিবির কিংবা এনসিপির ছদ্মবেশী ঘাতকচক্রের সদস্য ছিল, তারা গুপ্তভাবে ছাত্রলীগের পরিচয়ে শিক্ষাঙ্গনে ঘুরে বেড়িয়েছে, তাদের পড়াশোনাও নির্বিঘ্নে চালিয়েছে, এবং একই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগের নাম কলঙ্কিত করার সকল অপকর্ম করেছে। এসব ছদ্মবেশী অনুপ্রবেশকারীর মুখোশ আজ উন্মোচিত, আরো অনেক সত্যই সামনে আসবে। ছাত্রলীগ এসব ষড়যন্ত্রকারী ও নাশকতাকারীর বিরুদ্ধে সংগঠন ও শিক্ষাঙ্গনকে পরিশুদ্ধ করার লড়াই আরও জোরালো করবে।
জননেত্রীর আহবান আমাদের আরও স্পষ্ট করেছে এই সংগ্রাম গতানুগতিক সংগ্রাম নয়, এই সংগ্রাম দেশের গণতান্ত্রিক মর্যাদা, মানুষের মানবাধিকার এবং আইনের সুশাসন পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। তাই আমরা ঘোষণা করছি ছাত্রলীগের প্রতিটি মিছিল, প্রতিটি স্লোগান, প্রতিটি পদযাত্রা, প্রতিটি আন্দোলন হবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ। ইতিহাসের পথধারায় ছাত্রলীগই জাতির দিকনির্দেশক আলোকশিখা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সব সময়ই দেশ গড়ার লড়াই, মানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বিকাশ এবং গণতন্ত্রের সংগ্রামে অগ্রণী। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই সংগ্রামও বিজয়েই শেষ হবে, এ বিশ্বাস আমরা বুকভরা দৃঢ়তায় উচ্চারণ করছি।
এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনা আজ বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি প্রত্যয় উচ্চারণ করেছেন এই অবৈধ দখলদার, ফ্যাসিবাদী, খুনী সরকারকে সরিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে। আওয়ামী লীগ ছাড়া, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া, অবৈধ সরকারের দ্বারা প্রহসনের নির্বাচন জনগণ যেমন প্রত্যাখ্যান করবে, ছাত্রলীগও ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির প্রহসনের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ের ঘোষণা করছে। কারণ শিক্ষাঙ্গন থেকে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে যে দানবীয় দমননীতি চালানো হয়েছে, তার অবসান ঘটিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচানোর লড়াই এখন সময়ের দাবি এবং সেই লড়াইয়ের প্রথম কাতারে থাকার দায়িত্ব ছাত্রলীগ দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করেছে।
দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঘোষণা করছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত, মানবাধিকার সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত, আইনের শাসন পুনরুজ্জীবিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না। আমরা থামব না, পিছু হটব না, ক্লান্ত হব না কারণ বঙ্গবন্ধুকন্যার আহ্বানই আমাদের শক্তি, আমাদের সাহস, আমাদের আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের তারুণ্যই বাংলাদেশকে আবারও আলোয় ফেরাবে এই অঙ্গীকারই আজ ছাত্রজনতার চূড়ান্ত ইশতেহার।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
