নানারকম টোটকা ব্যবহারে দুর্বল ব্যাংকগুলো বাঁচানোর চেষ্টা করছে ইউনূস-সরকার। তাতেও ব্যাংকগুলো রক্ষা করা যাচ্ছে না। আমানতকারীদের আস্থা ফিরে আসেনি। ব্যাংকিং খাত রক্ষার সব উপায় জানা আছে, কোনো অর্থ ছাপতে হবে না- এমন ঘোষণা দিলেও শেষপর্যন্ত নিজেদের কথায় নিজেরাই স্থির থাকতে পারেননি উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে ব্যাংক রক্ষায় নিয়মিত টাকা ছাপাতে হচ্ছে তাদের।
গতকাল ২৫শে মার্চ, সোমবার উন্নয়ন বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ–ডিজেএফবি আয়োজিত উন্নয়ন সংলাপ ও ইফতার মাহফিলে এমন হতাশার কথা তুলে ধরেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
টাকা ছাপানো প্রসঙ্গে উপদেষ্টা দাবি করলেন, এখন আর টাকা পাচার হচ্ছে না। ব্যাংকগুলো থেকে টাকা লোপাট হচ্ছে না। তবুও কেন অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে না, নিজের প্রশ্নে নিজেই কারণ ব্যাখা করে বলেন, ব্যাংকগুলোকে এখন রক্ষা করা হচ্ছে। কোনো ব্যাংককেই আর দেউলিয়া হতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে অসুবিধা হচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা ছাপাতে হচ্ছে। অনেক ব্যাংকে আর্থিকভাবে অন্তত কিছু মূলধন দেওয়া হচ্ছে। সেটা খুব কঠিন কাজ তবু ব্যাংকিং খাতকে তো রক্ষা করা যাচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক একের পর এক খারাপ হচ্ছিল। অর্থনীতিবিদরা ভেবেছিলেন, বিভিন্ন সূচকে অর্থনীতি যেদিকে যাচ্ছিল, যেভাবে যাচ্ছিল, এটা অবধারিত। অর্থপাচার, ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতনের কথা উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, যেভাবে রিজার্ভ কমে যাচ্ছিল তাতে বৈদেশিক লেনদেন সম্ভব হত না। ব্যাংকগুলোর প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তারাই ব্যাংকের অর্থ নিয়ে লালবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে। ব্যাংক খালি করে বৈধ-অবৈধভাবে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা পরিষ্কার জানতেন, এই ব্যাংক আর টিকবে না। এ অবস্থা চললে কিছু ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যেত।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা দাবি করলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাত কী করে আস্তে আস্তে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে তা ওই পরিকল্পনায় রয়েছে।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, এখন পাচার হচ্ছে না, রপ্তানি বাড়ছে। রেমিট্যান্স বাড়ছে তবুও কেন রিজার্ভ বাড়ছে না- এর ব্যাখ্যায় উপদেষ্টা বলেন, বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাড়ছে। আগামীতে আরও বাড়বে। বৈদেশিক সাহায্য কমেছে। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ–এফডিআই কমেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এফিডিআই আসার কথাও নয়।
অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন বিভাগের সদস্য ও সরকারের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন ডিজেএফবি সভাপতি হামিদুজ্জামান। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মুহিব।