সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা জাদুঘর এখন ধ্বংসস্তূপ, লালমনিরহাটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমঞ্চের ম্যুরাল ঢেকে দেওয়া হয়েছে, আর ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ফলক কালো কালি দিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে।
এই তিনটি খবর কি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা? নাকি এর পেছনে সুস্পষ্ট একটি উদ্দেশ্য আছে?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলহাজ্ব আবদুল আজিজ, বীর প্রতীক।
মাত্র ২১ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন কুমিল্লার এই সাহসী সন্তান। ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি ছিলেন, গ্রীন রোডে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর ২ নম্বর সেক্টরে গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে যোগ দেন।
ঢাকা দখল করতে যাত্রাবাড়ী ইলেকট্রিক সাবস্টেশন ও সায়েদাবাদ সেতুর বিদ্যুৎ লাইন উড়িয়ে দেওয়ার মতো দুঃসাহসী অপারেশনে নেতৃত্ব দেন। তাঁর এই অপারেশন মুক্তিযুদ্ধের গতি বদলে দিয়েছিল। স্বাধীনতার পর তিনি সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, হজ করে জীবন শেষ করেছিলেন।
তাহলে আজ কেন তাঁর নাম ফলক মুছে দেওয়া হলো?
দেশের জন্য যুদ্ধ করা, জীবন উৎসর্গ করা মানুষের কবরের নামও যদি কালির আঁচড়ে ঢেকে দেওয়া হয়, তাহলে কি আমরা সত্যিই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগোচ্ছি? স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও কেন মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান সহ্য করতে হচ্ছে?
কোথায় সেই প্রজন্ম, যারা বলেছিল “মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে রুখে দাঁড়াব?” কোথায় সেই তরুণরা, যারা জুলাই মাসে রাস্তায় নামতে পারলে আজ কেন চুপ?
এই অপমান শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধার নয়, এটা আমাদের অস্তিত্বের ওপর আঘাত। আজ যদি আমরা চুপ থাকি, তাহলে কাল হয়তো আরেকটি কবর, আরেকটি স্মৃতিচিহ্ন, আরেকটি ইতিহাস হারিয়ে যাবে অন্ধকারে।
এই দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানের জবাব কে দেবে?