।। জয় বাংলা রিপোর্ট।।
পুঁটি মাছে লাফায় বেশি,অল্প সময়ে মরে যায়। বাঙালি মাত্রই কথাটি জানে। বেশি সময় বাঁচে কৈ ও শিং মাছ। বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে যারা লাফালাফি করছেন, তারা পুঁটি মাছ।তারা এক লাফে ডাঙায় উঠে গেছেন, এখন তো বাঁচার জন্য লাফালাফি চলছে। লাফালাফি করেন বা ফালাফালি করেন, মরতে হবে ঠিক সময়টিতেই।
তারা একবার বলছেন, আওয়ামীলীগকে নাই করে দেওয়া হবে, একবার বলছেন নিষিদ্ধ করা হবে, আরেকবার বলছেন, নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।ভাই রাজনীতির মাঠে রাজনীতি করেন, দেশের মানুষের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য লাফালাফি বা ফালাফালি করবেন না। এক বছর রাজনীতির মাঠে থাকুন, জনগণের তাপ লাগবে না, প্রকৃতির তাপে মরে যাবেন।প্রকৃতি বিচার ঠিকই করে, কাকে বেশিদিন বাঁচাতে হবে, আর কাকে অল্প সময়ে মারতে হবে, সেটা প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মেই হয়। এখানে ষড়যন্ত্রের স্থান নেই।পুঁটি মাছ হয়ে কৈ মাছকে তিরস্কার করবেন কেন।
একটা গান আছে ‘চোখ লাল কিসে? পীরিতির বিষে নাকি অন্তরের দোষ?’। গানটির কথা চটুল হলেও গভীর অর্থবোধক। আপনারা যে হৈ-চৈ করছেন, অমুককে তমুককে নির্বাচন করতে দেওযা হবে না,বা রাজনতি করতে দেওযা হবে না,সে দায়িত্ব কি জনগণ দিয়েছে?।এই গানের মর্মানুযায়ী আপনাদের দেশপ্রেম এতে আছে কি, নাকি অন্তরে দোষ আপনাদের। মানুষকে ভালোবাসা এক জিনিস, আর ভালো না-বাসা আরেক জিনিস। তাই, কবি নজরুলের ভাষায় বলতে হয়, ‘হায়রে ভজনালয়, তোমার মিনারে চড়িয়া ভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়’। মানুষ আপনাদের লাফালাফিতে বুঝে গেছে, আপনারা পুঁটি মাছ। স্বার্থবাদী হয়ে লাফালাফি শুরু করেছেন।
আমরা সমাজে দেখেছি, এক শ্রেণীর মানুষ আছে, তার কুকৃতি ঢাকার জন্য মানুষকে তটস্থ রাখে। অর্থাত, কথা বলতে দেয় না। ধরুন, পরিবারের মধ্যেও এরকম পরিস্থিতি দেখা যায়। যিনি আকাম-কুকাম করেন,তার এসবকে জায়েজ করা বা মেনে নেওয়ার জন্য হাম্বিতম্বি, ধমকধামক দিয়ে তিনি যা করেছেন, তা মেনে নেওয়ার পরিবেশ জোর করে আদায় করে নেন। অন্যরা নিরুপায় হয়ে মেনে নেয়। কিন্তু এটা সাময়িক। পরিবেশ পরিস্থিতি পাল্টে গেলে এই ব্যক্তিকে সবাই ছূঁড়ে ফেলে। আপনারা এই করবেন, সেই করবেন, সংবিধান ছুঁড়ে ফেলবেন, অমুককে রাজনীতি করতে দিবেন না, তমুক রাজনীতি মানি না। ‘নতুন ‘বন্ধোবস্ত’ কায়েম করবো।’
পুঁটি মাছের মতো লাফালাফির অলপবিদ্যা ভয়ঙ্করীর ফাঁদ ছিঁড়ে জনগণ যখন বাঘ হয়ে আসবে,পায়ের তলায় পুঁটি মাছ পিষে মরবেন। রাজনীতির মাঠে পুঁটি মাছের স্থান নেই। জানেন, উঁইপোকা উড়ে মরিবার তরে’। উড়েন, জনগণ দেখুক কত দূর উড়েন।আর কবে মরেন!