।। জয় বাংলা রিপোর্ট।।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতার বাসায়ও হামলা হয়েছে।
২এপ্রিল বুধবার সকালে নগরে ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের পর বিকেলে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বাসায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে, আনেয়ারুজ্জামান চৌধুরী লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ করে বক্তব্য রেখেছেন।সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদী বক্তব্য রেখেছেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ছাড়াও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকসহ আওয়ামীলীগ,যুবলীগের নেতৃবৃন্দে। এছাড়া স্যোসাল মিডিয়ায় প্রতিবাদী পোস্ট দেখা যাচ্ছে। তারা সিলেট সম্প্রীতির নগর,এ শহরে এমন ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না নেটিজনরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরের পাঠানটুলা এলাকায় আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাসায় ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেলে করে শতাধিক তরুণ-যুবক গিয়ে এ হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা বাসায় ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাট চালান। বাসাটিতে আনোয়ারুজ্জামানের পরিবারের কেউ থাকেন না। দুজন তত্ত্বাবধায়ক বাসার দেখাশোনা করেন।
একইভাবে শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরীর (নাদেল) বাসভবনের ‘ফ্ল্যাট অ্যাপার্টমেন্টের কার্যালয়’ এবং মেজরটিলা এলাকায় অবস্থিত ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রুহেল আহমদের বাসায় হামলা চালায় দুর্বৃত্তদের একটি দল। সন্ধ্যা সাতটায় রুহেলের বাসায় হামলার সময় তাঁর মা ও বোন বাসায় ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হামলার পর সরেজমিন দেখা যায়, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বাড়ির বসার ঘর থেকে শুরু করে প্রায় সব কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবের কাচ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে। অনেক আসবাবপত্র ওলটপালট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আলমারি, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, এসিও, সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র দাবি করেছে, বুধবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ছাত্রলীগের ব্যানারে ৩০ থেকে ৪০ জন তরুণ নগরের ধোপাদিঘিরপাড় এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেন। এতে ছাত্রদলের কিছুসংখ্যক নেতা-কর্মী বিক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতার বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালান। অন্তত চারজন প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁরা হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অংশ নিতে দেখেছেন।
এদিকে, ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় পরবর্তীতে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
হামলার বিষয়ে জানতে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষের মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী রাত পৌনে নয়টার দিকেগণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি শ্রীমঙ্গল ছিলাম। একটু আগে ফিরেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। যদি এমন হামলা ভাঙচুর হয়, এটা সমর্থনযোগ্য নয়।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর আনোয়ারুজ্জামান লন্ডন চলে আসেন। অন্যদিকে শফিউল আলম চৌধুরী ভারতের কলকাতায় রয়েছেন। এ ছাড়া রুহেলও দেশের বাইরে রয়েছেন।
যোগাযোগ করলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। কে বা কারা এটা করেছে, তা জানার চেষ্টা করছি।’