১। ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এম এ মমিন পাটোয়ারী।
আজ ভোর ৪টার দিকে ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ৫৪ বছর বয়সী মমিন পাটোয়ারি ছাত্রলীগের লিয়াকত-বাবু কমিটির কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক ছিলেন। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগের একটি উপ-কমিটিতে সহসম্পাদক এবং লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তার ঘরে এক পুত্র সন্তান আছে।
রিবার সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর তাকে দাফন করা হয়েছে।
মমিন পাটোয়ারীর ভাতিজা মুনতাকিম পাটোয়ারী বলেন, “আমার চাচা ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফুল দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন। ১৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তিনি মারা যান। যারা হামলা করেছে তাদের বিচার চাই।”
২। নওগাঁয় শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের চাপের মুখে পদত্যাগ করার পর যে শিক্ষকের জ্ঞান হারিয়ে ফেলার ভিডিও ভারাইল হয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই দিন চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নওগাঁ হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন নুরুল ইসলাম নামে সেই শিক্ষকের স্ট্রোক করেছিল বলে তারা ধারণা করছেন। দুই দিন চিকিৎসার পরেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি, বরং আরও অবনতির কথা জানিয়েছেন স্বজনরা।
অধ্যক্ষ নুরুলের বড় ভাই আবু নাছের আহম্মেদ বলেন, “সে স্বাভাবিক অবস্থায় নেই, কথা যা বলছে, বোঝা যাচ্ছে না, ভেঙে ভেঙে বলছে। অবস্থা ভালো না বলেই ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছেন।”
গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠাতে শিক্ষকদেরকে পদত্যাগের জন্য চাপের মধ্যে গত বুধবার নওগাঁর হাঁপানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই ঘটনা ঘটে।
৩। হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বিশিষ্ট ভূ-পর্যটক রামনাথ বিশ্বাস ১৯৩১ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত চারটি মহাদেশ ভ্রমণের কারণে উপমহাদেশে খ্যাতি লাভ করেন।
জানা গেছে, রামনাথ বিশ্বাসের বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার ২ নং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের বিদ্যাভূষণ পাড়া গ্রামে। উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর তিনি ভারতে চলে যান। এরপর তাঁর জন্মভিটা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি খতিয়ানে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে এ সম্পত্তির মালিক হয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু রামনাথ বিশ্বাসের বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রেখেছেন আব্দুল ওয়াহেদ ও তাঁর লোকজন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওয়াহেদ বাড়ির একাংশ ভেঙে ফেলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এর আগে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর রামনাথ বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়ে অবৈধ দখলদার আব্দুল ওয়াহেদ ও তাঁর লোকজনের হামলার শিকার হন চার সাংবাদিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক তৌহিদ মিয়া বাদী হয়ে আব্দুল ওয়াহেদ, তাঁর ছেলে ওয়ায়েছ, ওয়ালিদ ও ওয়াসিফের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
বাড়িটির অবৈধ দখল ও ভেঙ্গে ফেলা বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) প্রভাংশু সোম মহান বলেছেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুত্রঃ বিডিনিউজ24.কম, ৩০ আগস্ট ২০২৪। সমকাল, ৩০ আগষ্ট ২০২৪। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৪