উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-এ নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সিএনএন-নিউজ১৮-কে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে ইউনূস সরকারের ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ‘বিচারের নামে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন।
“এটি বিচারের নামে একটি রাজনৈতিক হত্যাপ্রচেষ্টা। তথাকথিত অপরাধ ট্রাইব্যুনাল না আন্তর্জাতিক, না নিরপেক্ষ—যা অনেক সম্মানিত বিদেশি আইনজ্ঞই উল্লেখ করেছেন। এর রায়টি আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দ্বারা ইঞ্জিনিয়ার করা হয়েছে,” বলেছেন শেখ হাসিনা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউনূসের শাসনামলে ঢাকায় ফিরে যাওয়া তার জন্য নিরাপদ নয়।
“আমি বারবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই অভিযোগগুলো হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ করেছি। ইউনূস এতে অস্বীকার করেন কারণ তারা জানেন আইসিসি আমাকে খালাস দেবে এবং তার সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিকৃষ্ট রেকর্ডকে তদন্ত করবে,” যোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৭ই নভেম্বর বাংলাদেশের আইসিটি গত বছরের জুলাইয়ের বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগের দায়ে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। দেশের ইতিহাসে এটি প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রীর এমন শাস্তি ঘোষণা। আইসিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বয়ং শেখ হাসিনা, কিন্তু গত বছরের বিক্ষোভের পর তাঁর সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনালটি পুনর্গঠিত হয়।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থের জন্য সেখানে প্রহসনের বিচার অনুষ্ঠিত করছে ইউনূস সরকার- এমন অভিযোগ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা হচ্ছে।
ভারতের সমর্থন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ভারতের জনগণ আমাকে অতিথি হিসেবে গ্রহণ করায় আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমি নিজ দেশ ছেড়ে যেতে চাইনি, কিন্তু থাকলে আমার এবং আমাকে রক্ষা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঝুঁকি ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “ন্যায়বিচার আসবে আন্তর্জাতিক চাপ এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল—সবাই এই বিচার প্রক্রিয়ার নিন্দা করেছে।”
“আমার ন্যায়বিচারের পথ নির্ভর করে বাংলাদেশের সাংবিধানিক শাসন এবং আইনের শাসনের পুনরুদ্ধারের ওপর, কোনো একক দেশের সিদ্ধান্তের ওপর নয়,” জোর দিয়ে বলেন তিনি।
ইউনূস শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা শঙ্কা প্রকাশ করেন।
“আমার সন্দেহ নেই যে, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ইউনূসের অস্থায়ী বোকামির মধ্যেও টিকে থাকবে। ভারত শুধু কৌশলগত অংশীদার নয়, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং ৪০০০ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া বন্ধু।”
“যখন বাংলাদেশিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে, তখন তারা এমন নেতা নির্বাচিত করবে যে ভারতের প্রাপ্য বন্ধু হবে। আমি আমাদের প্রতিবেশীর ধৈর্যের প্রশংসা করি যতক্ষণ না বোধোদয় হয়,” বলে শেষ করেন সাংবিধানিকভাবে এখন অব্দি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।
