বাংলাদেশের ৬ লক্ষ মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিন সহ প্রায় ১৮ লক্ষ জামায়াত কাজ করে।দেশ ধ্বংস হয়ে গেলেও এদের খয়রাত বন্ধ হবে না। বাংলাদেশের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলো বহু আগেই জামায়াত শিবির তাদের ব্যবসায়িক সেন্টার বানিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন জামায়াতের হাতে। রোগীদের গলায় চুরি বসিয়ে ইচ্ছেমতো ফু দিয়ে অর্থ আদায় করছে। বাংলাদেশের ওষুধ ব্যবসা ধ্বংসের জন্য জামায়াত ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ওষুধ কারখানা লুটপাট ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
বাংলাদেশের ৭০ হাজার মাদ্রাসায় কম করে হলে ৭ লক্ষাধিক জামায়াত শিবির কাজ করে।ধর্মকে এরা নিজেদের ব্যক্তিগত লুটপাটের প্রতিষ্ঠান বানিয়ে ফেলেছে।তাই বাংলাদেশের শিল্প কারখানা ও স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেলে জামায়াতের লাভ।
জামায়াত শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে না, বাংলাদেশের সকল প্রশাসনকে তাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। জামায়াতের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়ে বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনতাকে তাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা।
জামায়াত তাদের লক্ষ্য পুরণে ইতিমধ্যে নব্বই ভাগ সফল হয়ে গেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে ইতিমধ্যে জামায়াত শিবির গোয়ালঘর বানিয়ে ফেলেছে। বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসাকে জ-ঙ্গী উৎপাদনের কারখানা হিসেবে ব্যবহার করছে। দেশের আনাচে কানাচে লক্ষ লক্ষ উট পয়দা করছে জামায়াত।
জামায়াতের লক্ষ্য অর্জনে একমাত্র বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শেখ হাসিনা। এজন্য ‘ কোটা না মেধার ‘ একটি ভূয়া আন্দোলন করে পথের কাঁটা শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দিয়েছে। প্রতিটি মসজিদ ও মাদ্রাসাকে জামায়াত তাদের রাজনৈতিক কার্যালয় বানিয়ে ফেলেছে ইতিমধ্যে।তরুণ প্রজন্মের মগজে ধর্ম নামক ক্যান্সার ঢুকিয়ে দিয়ে জামায়াত শিবির পুরোপুরি সফল। এখন প্রথম আলো , ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের মত ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করবে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান এবং আদিবাসীদের বাংলাদেশ ছাড়া করবে এক এক করে। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সকল সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করবে জামায়াত।জামায়াতের ইসলামী সন্ত্রাসের বিপক্ষে কথা বললেই মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হবে কিন্তু কোন বিচার হবে না 🥲
২০১১ সালে মিশরে মুরসির মুসলিম ব্রাদারহুড এমনি র্যাডিক্যাল অ্যাক্টিবিজম শুরু করেছিল। মাত্র এক বছরের মাথায় মিশরের সেনাবাহিনী তাদের দেশ রক্ষা করতে মুসলিম ব্রাদারহুডকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ সিসি মুসলিম ব্রাদারহুডের নাম ও নিশানা মিশরের বুকে মুছে দিয়েছেন। মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের অনুকরণে জামায়াত শিবির বাংলাদেশে পশুত্বের রাজনীতি শ শুরু করেছে। এই পশুদের থামাবে কে ?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমের অভাব এটা চিরন্তন সত্য। এজন্য দেশ স্বাধীনের মাত্র ৫৪ বছরে ২৯ টি সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। সেনাবাহিনীর ক্ষমতার লোভ কিংবা পেছনের রাস্তা দিয়ে ক্ষমতায় আসার রাজনীতি বাংলাদেশে বেশ পুরোনো। বাংলাদেশের মুসলমানরা যে ভয়ঙ্কর লোভী ও উগ্রবাদী হয় , এই সুযোগটাই রাজনীতিতে কাজে লাগাচ্ছে জামায়াত।আমেরিকা ও তুরস্ক থেকে ডলার আসছে , ইন্ধন দিচ্ছে পাকিস্তানের আইএসআই।লিল্লাহ বোড়িং এর জন্য মানুষের পকেট কাটা খয়রাতি পয়সার কোন অভাব নেই। এই অভিশপ্তদের ধ্বংস করতে হলে একজন কামাল আতাতুর্ক অথবা একজন আবদেল ফাত্তাহ সিসি লাগবে। বাংলাদেশে বর্তমানে এমন কোন নেতা আছে বলে আমি মনে করি না।
জামায়াতের বর্তমান নেতাদের একটা বড় অংশই জাসদের লুঙ্গির তলা থেকে বের হয়ে বিএনপির লুঙ্গির তলা হয়ে নিজেদের মুখোশে বের হয়ে এসেছে।একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য দক্ষ জনবল ও অভিজ্ঞতা কোনটাই জামায়াতের নেই। জামায়াতের পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনা কিছুতেই সম্ভব নয়।
জামায়াতের সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে।এর মধ্যে একটি হচ্ছে বিএনপির সাথে মিলে একটি জাতীয় সরকার গঠন করা। দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের আমীর শফিক দূর্নীতির বরপুত্রের সাথে বসে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জামায়াতের অতিরিক্ত এই ক্ষমতালোভের রাজনীতির ফাঁদে পা দিলে বিএনপির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যেতে পারে এটা হয়তো বিএনপিও কিছুটা বুঝতে পারছে।তাই তারেক জিয়া বারবার এক পা আগাচ্ছেন তো দুই পা পিছিয়ে যাচ্ছেন।এই ফর্মূলায় সফল হতে না পারলে জামায়াতের কাছে সর্বশেষ যে উপায়টি আছে তা হচ্ছে বিএনপিকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করে দিয়ে বন্দুকের নল দিয়ে ইরানের খোমেনি স্টাইলে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে প্রশাসন সর্বত্র ইতিমধ্যে জামায়াত তাদের এই শক্তি অর্জন করে নিয়েছে।জামায়াতের একটা প্রশিক্ষিত জঙ্গীদল আছে। বিএনপি এদের সামনে কোথাও টিকতে পারবে না। বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসলেও জামায়াতের কাঠপুতলি ছাড়া আর কিছুই হতে পারবে না। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ২৯ শে ডিসেম্বরের মধ্যে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার মধ্যে। বাংলাদেশ কি চিরতরে জ-ঙ্গী রাষ্ট্রের দিকে যাবে নাকি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোয় বাংলাদেশ ফিরবে, এর পুরোটাই নির্ভর করছে এই মুহুর্তে বিএনপির উপর।।
বাংলাদেশকে যতটুকু রসাতলে নেওয়ার তাতে প্রায় শতভাগ সফল হয়ে গেছে জামায়াতে ইসলাম। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোয় সরকার চালানোর মত অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা কোনটাই তাদের নেই। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জামায়াতের পক্ষে কোনভাবেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখন জামায়াত শিবিরকে একটি নষ্ট , জঘণ্য ও ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখে এটাই সত্য।
রাজনীতির এই সুযোগটাই নিতে পারেন তারেক রহমান। কিন্তু তাতেও তারেক রহমান খুব বেশীদিন সফল হতে পারবেন বলে মনে হয় না। জামায়াত ইতিমধ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসা সবকিছুকেই ধ্বংসের দরজায় নিয়ে এসেছে।এর থেকে মুক্তি একপ্রকার অসম্ভব। মিরাকল কিছু না ঘটলে বাংলাদেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি জ-ঙ্গী রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই।।
সত্য সবসময় সুন্দর।
লুসিড ড্রিম ১৯-১২-২০২৫
