ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) বন্দিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ২৪ ঘণ্টা লকআপে রাখা এবং নিয়মিত খাবার ও পানি না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) কারাগার থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এই অভিযোগ করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারেক।
কারাগারের শাপলা, বনফুল ও সূর্যমুখী ভবনের প্রায় দুই হাজার বন্দির পক্ষ থেকে লেখা ওই চিঠিতে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জেল কোড অমান্যের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চিঠিতে যা বলা হয়েছে
কারাগারের বনফুল সেলের ৩/১ কক্ষে বন্দি তরিকুল ইসলাম (হাজতি নং- ৬১০৪৭/২৫) তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই কারা কর্তৃপক্ষ আইন অমান্য করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘২৪ ঘণ্টা লকআপ’ প্রথা চালু করেছে।
চিঠিতে তিনি লিখেন, ‘‘শাপলা, বনফুল ও সূর্যমুখী ভবনের প্রায় ১৮০০ থেকে ২০০০ জন হাজতিদের ২৪ ঘণ্টা লকআপে রেখে বিভিন্নভাবে মানবতাবিরোধী অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ কারা আইন বহির্ভূত কাজ।’’
খাবার ও পানীয় সংকটের অভিযোগ
শুধু আটকে রাখাই নয়, বন্দিদের মৌলিক অধিকার হরণের অভিযোগও করা হয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়, ‘‘১৮০০ থেকে ২০০০ হাজতিদের কারাকর্তৃপক্ষ নিয়মিত খাবার পানি ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী থেকে বঞ্চিত করে অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে।’’
আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা
চিঠির শেষে তরিকুল ইসলাম এই পরিস্থিতিকে ‘নির্মম অত্যাচার’ উল্লেখ করে নিজেদের রক্ষায় আকুতি জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘আপনাদের সকলের প্রতি আকুল আবেদন, আমার এই বার্তাটি বাংলাদেশসহ সকল আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী সংস্থাকে অবগত করে আমার মত ২০০০ হাজতিদের এই নির্মম অত্যাচার থেকে রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।’’
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং পরবর্তীতে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর সংগঠনটির বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তরিকুল ইসলাম তারেক তাদেরই একজন, যিনি বর্তমানে কেরানীগঞ্জ কারাগারে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে রয়েছেন।
এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বন্দিদের ২৪ ঘণ্টা লকআপে রাখা এবং খাদ্য সংকটের বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
