আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ড. এ কে আব্দুল মোমেন একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্ব ও সরকার পরিচালনার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি ড. ইউনূসের কর্মকাণ্ডকে ‘হিটলারের পন্থা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, এটি দেশকে তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে এবং জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজন সৃষ্টি করছে।
ড. মোমেন বলেন, প্রথমে তিনি আশা করেছিলেন যে ড. ইউনূসের আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও যশ দেশে ঐক্য স্থাপনে কার্যকর হবে। তিনি নিজে ড. ইউনূসের সহযোগীদের পরামর্শ দিয়েছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলার মতো ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করে বিভক্ত দেশকে একত্রিত করার। কিন্তু তিনি হতাশ হয়েছেন বলে জানান। “তিনি (ইউনূস) হিংসা-বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা ও নিজের স্বার্থে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আমি খুবই ডিসেপয়েন্টেড।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমান ব্যবস্থায় আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ‘সিস্টেমেটিক’ভাবে হত্যা, জেল-জুলুম ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। “এটা হিটলারের মতো ইহুদি নিধনের পন্থা। এই হিটলারিজম শুরু হয়েছে, এটা অগ্রহণযোগ্য। দেশ সবার।”
সংস্কারের নামে প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অভিযোগ তুলে ড. মোমেন বলেন, পুলিশ, প্রশাসন সব শেষ হয়ে গেছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা ‘ইল্লিগাল’ভাবে চাকরিতে এসে বলছে, “যেকোনো নির্বাচিত সরকার এলে চাকরি চলে যাবে, তাই এই কয়েকদিনে যত ইনকাম করা যায়।” এই সংস্কারের ফলে একটা ‘কালচার’ তৈরি হয়েছে যা সোভিয়েত ইউনিয়নের গ্লাসনোস্ত সংস্কারের মতো, যা দেশকে ভেঙে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, “আমার আতঙ্ক হয় যে সংস্কারের নামে দেশ ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যাবে না তো?” এছাড়া তিনি মব রাজত্ব ও জিহাদী উগ্রবাদের জন্য ড. ইউনূসকে দায়ী করে বলেন, “ড. ইউনূস মনে হচ্ছে মবের জনক।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শেখ হাসিনার সরকার ১৯৯৬ সাল থেকে ড. ইউনূসের নেমব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক সুনাম বাড়াতে ব্যাপক সহায়তা করেছে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রোগ্রামে সমর্থন, গ্রামীণ অ্যাম্বাসেডরস গ্রুপ গঠনসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন তিনি সেই পথ থেকে সরে গেছেন।
ড. মোমেনের সারসংক্ষেপে বলেন, দেশ বাঁচাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে—আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি যেই হোক না কেন। “ইট ইজ নট ইম্পর্টেন্ট যে কোন দল, ইম্পর্টেন্ট ইজ কান্ট্রি মাস্ট বি ইউনাইটেড অ্যান্ড সারভাইভ।” এই সাক্ষাৎকারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যত তীব্র হচ্ছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে এমন মতামত। ড. মোমেনের এই বক্তব্য অনেকের কাছে দেশের বর্তমান সংকটের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
