অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগমকে হঠাৎ অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই দাঙ্গার পর ৫ই সেপ্টেম্বর চুক্তিভিত্তিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত আফসানা বেগমকে গত ২০শে জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে “জনস্বার্থে” তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে।
কোনো পূর্ব নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, যা অনেকের কাছে জোরপূর্বক অপসারণের মতোই মনে হচ্ছে।
আফসানা বেগম তখন কক্সবাজারে কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সহকর্মীর মাধ্যমে তিনি প্রজ্ঞাপনের কথা জানতে পান। তার ফেসবুক পোস্টে (চার পর্বের লেখা) তিনি বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন যে, কোনো কারণ ছাড়াই এই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, জুলাই দাঙ্গার পর তার মতো লেখক-বুদ্ধিজীবীদের এমন পদে নিয়োগের চল ছিল, কারণ তিনি রাজনৈতিক কলাম লেখা, মতপ্রকাশের অধিকার ও ভোটাধিকার নিয়ে সক্রিয় ছিলেন।
প্রজ্ঞাপনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না থাকলেও, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মামুন শিবলী একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর চাওয়া অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আফসানা বেগম তার লেখায় মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও গ্রন্থকেন্দ্রের প্রতি অবহেলার চিত্র তুলে ধরেছেন।
কিছু সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, কোটা সংস্কার নিয়ে সাংস্কৃতিক উপদেষ্টার সঙ্গে তার মতভিন্নতা এই অব্যাহতির অন্যতম কারণ হতে পারে। আফসানা বেগম তার পোস্টে কোটা নিয়ে ফারুকীর সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি কোটা ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন।
এই ঘটনা জুলাই চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অনেকে মনে করছেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটা সংস্কার, স্বজনপ্রীতি ও অন্যায় নিয়োগের বিরুদ্ধে ছিল। অথচ দাঙ্গা-পরবর্তী সরকারে একজন যোগ্য লেখক-পরিচালককে বিনা কারণে অপসারণ করে নতুন করে নিয়োগ (কবি-প্রবন্ধকার এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ ওরফে সাখাওয়াত টিপু) দেওয়া হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে এটিকে “অন্যায়” ও “পুরনো আমলাতান্ত্রিক ধারা”র ধারাবাহিকতা বলে সমালোচনা করছেন। কেউ কেউ আশা করছেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এই ঘটনার তদন্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
এই অপসারণ কি সত্যিই জনস্বার্থে, নাকি ব্যক্তিগত-প্রাতিষ্ঠানিক মতভিন্নতার ফসল? জুলাইয়ের চেতনা যেখানে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি করেছিল, সেখানে এমন হঠাৎ সিদ্ধান্ত অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
