কাশফিয়া আনাম
আজীবন সততার সাথে চাকরি করা একজন বৃদ্ধ মানুষকে অবসরের আগে হ্যাকার বানিয়ে গ্রেপ্তার করে যেভাবে অসম্মান করা হলো তার কী কোন বিচার হবে? বৃদ্ধ মানুষটা নিশ্চয়ই আল্লাহর দরবারে বিচার চেয়েছেন! আফসোস বাংলাদেশে সাধারণ মানুষকে হয়রানির এই অপসংস্কৃতি কখনো বন্ধ হলো না!
বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তারের পর আজকে আদালতে আনা হলে বিচারক বলেন, আপনি কি কিছু বলতে চান? জবাবে ছরওয়ারে আলম বলেন, ‘আমি এ ধরনের কাজ করিনি। আমি কিছুই করেনি। তদন্ত কর্মকর্তাকে বারবার বলেছি। আমি তদন্ত কর্মকর্তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে চেয়েছি। চাকরির শেষ বয়সে এসে আমি এসব কাজ করব কেন?’
ছরওয়ারে আলম বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছায় আমার মোবাইল, ল্যাপটপ তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে সহযোগিতা করেছি। আমার হাত দিয়ে কোনো খারাপ কাজ হয়নি। খারাপ কাজ করতে পারি না, কখনো করব না। আমি ১০০ পার্সেন্ট নিজেকে নির্দোষ দাবি করছি।’
ছরওয়ারে আলম আরও বলেন, ‘এই বয়সে এসব করে নিজের পেনশন নষ্ট করব? এই কাজ করার কোনো মানে নেই। আমার বয়স হয়েছে, পরিবার রয়েছে। এ রকম কাজ করতে যাব কেন?’
শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদের আদালত তাকে জামিন আদেশ দেন।
গণমাধ্যমের খবর বলছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর রাজারবাগ এলাকা থেকে তাকে আটক করে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এ সময় ডিবির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান, গ্রেপ্তারের মতো প্রমাণ তাদের হাতে নেই। তবে তারপরেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার দেখাতে বললে অপারগতা প্রকাশ করেন অধস্তন কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পর কার্যত ডিবি বিভক্ত হয়ে যায়।
গণমাধ্যমের খবর বলছে, ডিবির এক ঊধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ৫ আগস্টের আগে পুলিশ যে ধরণের ভুল-ত্রুটি করেছে সে ধরনের কর্মকাণ্ডে আর জড়াতে চায় না বর্তমানে ডিবির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। তিনি আরো বলেন, কোন সংস্থা থেকে তথ্য পাওয়া গেলে তদন্তকারী সংস্থা হিসাবে তা যাচাই-বাছাই করে কোন সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে অন্য কোন সংস্থার নির্দেশে গ্রেফতার কার্যক্রম পেশাদারিত্বের বহির্ভূত একটা কাজ। এজন্য গ্রেপ্তারে অপারগতা প্রকাশ করা হয়।
আফসোস আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা তো পরের কথা বাংলাদেশে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অপসংস্কৃতি কখনো বন্ধ হলো না!
