সিলেট শহরের পাঠানটুলা এলাকার তারাপুর চা-বাগানের গৌরনিতাই মন্দিরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এতে বাঁশ, টিন দিয়ে তৈরি মন্দিরের ভেতরে থাকা কৃষ্ণের ছবি, গীতাসহ পূজার উপকরণ পুড়ে গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাতটার দিকে স্থানীয় লোকজন মন্দিরের ভেতরের ভস্মীভূত অংশ দেখতে পান। তখনো কিছু অংশে ধোঁয়া উড়ছিল। খবর পেয়ে চা-শ্রমিকেরা জড়ো হন। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিএনপি নেতা ও পুলিশ। এ ঘটনায় মন্দির কর্তৃপক্ষ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তারাপুর চা-বাগান পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক সুনীল মোদী গণমাধ্যমকে বলেন, কে বা কারা কেন মন্দিরে আগুন দিয়েছে, সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে মন্দিরের একটা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভেতরে থাকা ধর্মগ্রন্থ গীতা, কৃষ্ণের ছবি, প্রণামীর টাকা, পূজার বিভিন্ন উপকরণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
চা-শ্রমিকেরা জানান, শহরের ভেতরই তারাপুর চা-বাগানের অবস্থান। তবে প্রশাসনিক বিন্যাসে বাগানটি সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। প্রায় তিন বছর আগে মন্দিরটি স্থাপন করা হয়। এর পর থেকে এখানে চা-শ্রমিকেরা নিয়মিত পূজা-অর্চনা করেন। মন্দির পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় অনেকে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান (শফিক), স্থানীয় বাসিন্দা সজীব খান, আফসর খানসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
পুড়ে যাওয়া মন্দির পরিদর্শনকালে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। মাত্র নির্বাচন শেষ হয়েছে। দেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ঠিক এ সময় অস্থিরতা তৈরি করতেই মন্দির, ধর্মগ্রন্থ গীতা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নগর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগর। যেসব দুর্বৃত্ত এটা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগরের বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মুবাশ্বির আলী প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। কেন এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
