যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেও শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া তার বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে মতপার্থক্য আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই সমাধান করতে চান, তবে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবেন না।
ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও ইরান আবার তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। যদিও তিনি দাবি করেন, মার্কিন হামলায় সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছিল-এই দাবিকে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
তিনি আরও জানান যে ইরানের সাথে ওয়াশিংটন চুক্তি করতে চায়, কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি ইরান এখনও দেয়নি।
ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ‘আমার পছন্দ কূটনৈতিক সমাধান। তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাস পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।’
২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলার পর তেহরানকে ভবিষ্যতে অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থাও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন প্রমাণ পায়নি।
ভাষণে ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে সড়কপথে বোমা হামলায় মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্যও তেহরানকে দায়ী করেন তিনি।
