ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনির মৃত্যুতে ইরান সহ সারাবিশ্বে যেন উৎসব শুরু হয়েছে। ইরানের রাস্তায় রাস্তায় গতকাল রাত থেকে লক্ষ লক্ষ নারী ও পুরুষরা উৎসব শুরু করেছে।মনে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য এক দানবের মৃত্যু হয়েছে।২২ বছরের মাশা আমিনীর মত হাজার হাজার নিরীহ নারীর রক্তের দাগ লেগে আছে খামেনির হাতে।৪৭ বছরের দাসত্ব মুক্ত হতে যাচ্ছে ইরান। ভবিষ্যৎ পৃথিবীর মানুষ এক জ-ঙ্গীবাদ মুক্ত নতুন বিশ্বে মুক্ত হাওয়ায় বাঁচবে।এর জন্য আগামী ২-৩ বছর সমগ্র বিশ্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খামেনির মৃত্যুর সাথে সাথে বিশ্বের ৫০ শতাংশ জঙ্গীবাদ ধ্বংস হয়ে গালে। সময়ের সাথে সাথে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব জ-ঙ্গীবাদ মুক্ত হবে।আহত বাঘের মতো কিছুদিন লাফালাফি করে ইরানের আইআরজিসি Tom and Jerry খেলায় বিড়ালের খাবারে পরিণত হবে।১৯৮১ সালের জুন মাসে টেপ রেকর্ডার থাকা বোমার বিস্ফোরণ থেকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি বেঁচে গেলেও এইবার আর রক্ষা হয়নি তার শিষ্য আয়াতুল্লাহ খামেনির।এটা বিশ্বের জন্য এক ঐতিহাসিক শিক্ষা। খামেনির মৃত্যুর সাথে সাথে ইরানের ” বেলায়েত – এ ফকিহ” রাজতন্ত্রের সমাপ্তি হলো।
আমেরিকার ২ বিলিয়ন ডলারের রাড়ার কিংবা ১০ বিলিয়ন ডলারের ডেস্ট্রয়ার ধ্বংস অথবা তিন মাস ধরে নূন্যতম ৫ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধজাহাজ ব্যয় দেখে যদি তোমার মনে হচ্ছে আমেরিকা এই যুদ্ধে হেরে গেছে তবে তুমি বোকার স্বর্গে আছো। এই যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকা চীনের ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে। ইরানের চেয়ে ৭৫ গুণ ছোট ইসরায়েল ১২ টা ১০ মিনিটেই খামেনির কেল্লা ফতে করে দিয়েছে।খামেনিকে আমেরিকা নয় , হত্যা করেছে ইসরায়েল।গত বছরের জুন মাসে ইচ্ছে করলেই তাকে খামিনিকে হত্যা করতে পারতো। কিন্তু আমেরিকার কারণে তা সম্ভব হয়নি।কারণ খামেনি পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে আমেরিকা চিন্তিত ছিলো।
খামেনির উত্তরসূরী পুত্র মোজতবা খামেনি তিনিও নিহত হয়েছেন এমন দাবী উঠেছে।মোজতবা খামিনি লন্ডনের বিলিওনিয়ারস রো এলাকায় আবাসিক হোটেল , রাজকীয় প্রাসাদ এছাড়াও পশ্চিম এশিয়ায় রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা বাণিজ্য করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন। খামেনির মৃত্যুর সাথে খামেনি পরিবারের রাজকীয় বিলাসিতার সমাপ্তি হলো।এক স্বৈরাচার মুক্ত হলো ইরান।১৯৮৮ সালে ইরানের কারাগারগুলোতে হাজার হাজার বামপন্থী নেতাদের নির্বিচারে হত্যা করেছে খামেনি সরকার।ডেথ কমিশনের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয় ইরানে।ইরানে হিজাব বিরোধী বিক্ষোভে খামেনি সরকার হাদীস নাজাফি ও মাশা আমীনী সহ পাঁচ শতাধিক নিরীহ নারী, পুরুষ ও শিশুকে নির্বিচারে গণহত্যা করেছে। গত কয়েক মাস আগে খাদ্যের দাবিতে ইরানের মানুষ খামেনি পতনের বিক্ষোভ শুরু করলে আয়াতুল্লাহ খোমেনির সরকার ৩ হাজার ১১৭ জন মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এভাবে মানুষের লাশের উপর খামেনি সরকার কতদিন টিকতে পারতো ⁉️
গতকাল যখন আহত ইদূরের দৌড়াদৌড়ি চলছে তখনি বুঝে গিয়েছিলাম শালোম আয়াতুল্লাহ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সন্ধ্যায় ভাষণের পর পুরো বিশ্ব বুঝে গেছে শালোম আয়াতুল্লাহ অর্থাৎ আয়াতুল্লাহ খতম। মুসলমানরা যেমন করে সালাম দেয় ঠিক তেমনি ইহুদীরাও সালাম দেয়।খামেনির মৃত্যুর পর ইসরায়েলের মিডিয়া খামেনিকে নিয়ে মিম বানিয়ে পোষ্ট দিয়েছে শালোম আয়াতুল্লাহ অর্থাৎ খামেনির আত্মার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। এরপর ইরান একসাথে মধ্যপ্রাচ্যের ৮ টি মুসলিম বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করে। সৌদি ও কাতারের বাদশাহ বুঝে গিয়েছিলেন খামেনি মারা গেছে।তাই দীর্ঘ সময় পর একে অপরের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। খামেনির মৃত্যুতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে লাভবান তুরস্ক ও সৌদিআরব। ফলে এইবার মধ্যপ্রাচ্য শুরু হবে সুন্নী মুসলমানদের আধিপত্যবাদের এক নতুন লড়াই, যাতে ভুমিকা পালন করবে পাকিস্তান। এজন্য পাকিস্তান আফগানিস্তানে ইতিমধ্যে ৩৩১ জন নিরীহ মুসলমানকে হত্যা করেছে। আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আখুন্দজাদাকে হত্যা করেছে। তালেবানি শাসন দূর্বল করতে আমেরিকার গোলাম হয়ে পাকিস্তান একের পর এক আফগানিস্তানে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে।
১৯৭৯ সালে আল কায়েদা , তালেবান এর মতো করে ইরানে শাহ শাসনের পরিবর্তন করে খামেনিকে বসিয়েছিলো আমেরিকা।আজ ৪৭ বছর পর সেই মোল্লাতন্ত্রের অবসান ঘটেছে।এর মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে এক শান্তির বার্তা ছড়িয়ে যেতে লাগলো মুহুর্তে।খামেনির মৃত্যুর মাধ্যমে ইরান , সিরিয়া , লেবানন সহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে শান্তি ফিরে আসতে শুরু করবে।ইসলামী মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদ বিশেষ করে আইএসআই , হিজবুল্লাহ , হামাস ও হুতির মতো জ-ঙ্গী সংগঠনগুলো এইবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।শান্তি ফিরতে শুরু করবে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে।
খামেনির মৃত্যুর মাধ্যমে শান্তি ফিরতে শুরু করবে বাংলাদেশে। ইরানের রেজিম পরিবর্তন হলে এই সুবাতাস পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে। পাকিস্তানের ভেতরে লুকিয়ে থাকা জ-ঙ্গী সংগঠন ধীরে ধীরে অকোজো হয়ে যাবে। বাংলাদেশের ভেতর জান্নাতের স্বপ্ন দেখা জামায়াতে ইসলামের গতকাল রাতেই স্বপ্নদোষ হয়ে গেছে।আর কোনদিনও ওরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।ধীরে ধীরে সমগ্র বিশ্বে মৌলবাদের বিলুপ্ত ঘটবে।এক আধুনিক ও প্রগতিশীল মুসলমান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হবে। বিশ্বব্যাপী আবার জ্ঞান ও বিজ্ঞানে ইসলামের পতাকা উড়বে।তবে এর জন্য সময় লাগবে। পৃথিবী জুড়ে জামায়াতে ইসলামীর মত এমন অসংখ্য জ-ঙ্গী সংগঠন এখনও মানবতার জন্য বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তুরস্কের মেরুদন্ড না ভাঙা পর্যন্ত এই জঙ্গীবাদ থেকে পৃথিবীর ৮০০ কোটি মানুষের নিঃস্তার নেই।
দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে খামেনি শাসনকে ইরানকে একটি মেরুদন্ড হীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। মুসলিম দেশ ইরাকের সাথে যুদ্ধ করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশে জঙ্গীবাদ তৈরি করে ইরান সেসব দেশগুলোতে গৃহযুদ্ধ লাগিয়েছিলো। খামেনির মৃত্যুর সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে শুরু করেছে।খামেনি, বিপ্লবী গার্ড প্রধান পাকপুর , মোজতবা খামেনি, খামেনির মেয়ে ও মেয়ের জামাই সহ নাতির মৃত্যু হয়েছে। খামেনির প্রেসিডেন্ট প্যালেসে এক এক করে ত্রিশটি হামলা হয়েছে।ইরানকে স্থিতিশীল করতে নূন্যতম একবছর লাগবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে খামেনি বিহীন ইরান হবে এক সমৃদ্ধ ইরান।
ইরান পৃথিবীর ১৪ তম শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্র। অনেকেই ভেবেছিলেন আয়াতুল্লাহ খোমেনি ভেনেজুয়েলার মাদুরো নন। কিন্তু ইসরায়েল প্রমাণ করে দিলো সংখ্যায় দূর্বল ও ছোট হলেও টোমিরিস এর মত বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলী হলে পারস্যে সম্রাট সাইরাসের কল্লা নিয়ে আসা যায়। নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য রাণী টমিরিসের মতো ইসরায়েল ‘ লায়ন’স রোর ” অপারেশনের মাধ্যমে খামেনি শাসনের অবসান ঘটলো। আমেরিকার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে খামেনি রিজিমকে অস্ত্র সমর্পণ করতে বলা হয়েছে। আইআরজিসি ভবিষ্যতে হামাস ও হুতির মতো একটা আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠনে পরিণত হবে।শুধু ইসরায়েলের দোষ দিয়ে কোন লাভ নেই। সৌদিআরব, তুরস্ক , বাহারাইন, ওমান , কাতার , জর্ডান কোন সুন্নী মুসলিম রাষ্ট্র চায়নি শিয়া মুসলিম আয়াতুল্লাহ খোমেনির ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হোক। যার ফলে এসব মুসলমান রাষ্ট্র গোপনে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে।
ইরানের তেল কেনার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি টিকিয়ে রেখেছিল চীন।বিশ্ব বাণিজ্য যুদ্ধে খামেনির মৃত্যুর সাথে সাথে আগামীর বিশ্বে এগিয়ে যাবে আমেরিকা ও ভারত। কিছুটা পিছিয়ে পড়বে চীন ও রাশিয়া। ভবিষ্যতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের শেকড় উপড়ে ফেলতে পারলে আগামীর বিশ্বে জ্ঞান ও বিজ্ঞানে উন্নত ও সমৃদ্ধ এক শক্তি হবে মুসলমানরা।মগজে উগ্রবাদ , মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের জন্য সমগ্র বিশ্বে জ্ঞান ও বিজ্ঞানে প্রায় ছয়শো বছর রাজত্ব করা মুসলমানরা পিছিয়ে গিয়েছিল। খামেনির মৃত্যুর সাথে সাথে সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
আয়াতুল্লাহ খোমেনির মত শেখ হাসিনা আমেরিকার বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ কি শেখ হাসিনাকে মূল্যায়ন করতে পেরেছিল ⁉️ খোমেনি ইরানে ইসলামিক শাসনের নামে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । আমেরিকা ও ইসরায়েল জুজুর ভয় দেখিয়ে নিজেদের উন্নত না করেই সামরিক সমৃদ্ধ এক মেরুদণ্ডহীন ইরান গড়ে তুলেছিলেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও মগজের উন্নয়ন না করে এক আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলেছিলেন।এতেই আমেরিকার সবচেয়ে বড় শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। মানুষ ভুল থেকেই শিখে।শেখ হাসিনাকে দেশছাড়া করে বাংলাদেশের মানুষ তাদের পায়ে কুড়াল মেরেছে।এসব সত্য একটা সময় বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পারবে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনি মধ্যপ্রাচ্য বন্ধুত্ব হীন হয়ে পড়েছিলেন। পুরো মধ্যপ্রাচ্যে জুড়ে শিয়া রাজত্ব প্রতিষ্ঠার তার ভ্রান্ত চিন্তার খেসারত দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশের সাবেক উপদেষ্টা ইউনূসের মত একটা সময় রুহুল্লাহ খোমেনিকে ফ্রান্স থেকে উড়িয়ে এনে ইরানের আধ্যাত্মিক নেতা বানিয়ে দিয়েছিল আমেরিকা। খামেনি নামক জুজুর ভয় দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ২৭ টি ঘাঁটি তৈরি করেছে আমেরিকা।এক এক করে খামেনির সব ডানা ভেঙ্গে ফেলা হবে। সময়ের সাথে সাথে পাল্টে যেতে থাকবে ইরানের ভবিষ্যৎ। বিশ্বের জঙ্গীবাদ হবে এক কবরস্থান।ভারত ও ইসরাইলের মৌলবাদ বিরোধী ১০ বিলিয়ন ডলারের ডিল আগামী দিনের দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে পট পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। ” মোল্লা মাস্ট গো” এই স্লোগানের মাধ্যমে ইরানের ভবিষ্যৎ পাল্টে যাওয়ার সাথে সাথে পাকিস্তান , আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হতে থাকবে।
একটি প্রবাদ আছে-” Everything is fair love and war “
সত্য সবসময় সুন্দর। লুসিড ড্রিম ০১-০৩-২০২৬
