ইখতিয়ার উদ্দিন
১৯৮৬ সালের নির্বাচনে নিতাই রায় চৌধুরী লাঙ্গল মার্কা নিয়ে লড়েছিলেন। তারপর রাজনৈতিক মহলে একটি গল্প ছড়িয়ে পড়ে। এর সত্যমিথ্যা জানি না।
তবে গল্পটি এ রকম-
ভোটের দিন সকালে বের হওয়ার আগে নিতাই রায় চৌধুরী তার বর্ষীয়ান মা’কে প্রণাম করতে গেলেন। প্রণাম সেরে তিনি মা’কে বললেন, মা, ভোট দিতে যাইবা না? মা বললেন, যাবো তো। নিতাই বললেন, এবার কিন্তু নৌকা নাই। এবার লাঙ্গল, লাঙ্গলে ভোট দিও। মা বললেন, আচ্ছা।
ভোট শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নিতাই রায় চৌধুরী ফ্রেশ হয়ে ডিনার করতে বসলেন। এ সময় মা এসে তার পাশে বসলেন। বর্ষীয়ান মা খুশি হয়ে নিতাই রায় চৌধুরীকে বললেন, হ্যারে নিতাই তুই না কইলি এবার ভোটে নৌকা নাই? আমি তো ব্যালটে নৌকা পালাম, ভোটও দিছি। সেই নির্বাচনে নিতাই রায় চৌধুরীর ফলাফল কি হয়েছিল তা বলাই বাহুল্য। অবশ্য ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে নিতাই রায় চৌধুরী এমপি হয়েছিলেন। এরশাদ সম্ভবত তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী করেছিলেন।
এই দফায় নিতাই রায় চৌধুরী এমপি হয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
চারুকলার বর্ষবরণ শোভাযাত্রার নাম ইউনূস আমলে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হয়েছিল। কারণ ওই সময় আয়োজকরা পাকিস্তানি এজেন্ডার চাপে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দিতে বাধ্য হয়েছিলেন অথবা তারা নিজেদের আগ্রহেই পাকিস্তানি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। এবারও শোভাযাত্রার আয়োজকরা ঘোষণা দিলেন, শোভাযাত্রার নাম ইউনূস আমলের মতো ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ হবে। এর পরদিনই মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানালেন, শোভাযাত্রার নামে মঙ্গল শব্দটি ফিরবে। আমি ভেতরে ভেতরে খুশি হলেও খানিকটা যে অবাক হইনি, তা নয়। নিতাই দা’র তাহলে বুকের পাটা আছে, বলতেই হবে। কিন্তু একদিন না ঘুরতেই দেখি, আমাদের সাহসী নিতাই দা পূনর্মুষিকভব। জানালেন, ‘আনন্দ’ ‘মঙ্গল’ দুটোই বাদ। এবার হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।
স্যরি, নিতাই দা। আপনার বেদনা বুঝি। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটি আপনি ফেরাতে চেয়েছিলেন আপনার শুভ বোধ থেকেই। কিন্তু আপনি যে ঘোড়ায় চড়েছেন, তার লাগাম অশুভ শক্তির হাতে। তাইতো, ‘পারলে না রুমকি’!!
