ঢাকা, ৭ এপ্রিল: জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধ এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সারা দেশে চালানো অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রশ্রয় ও ছত্রছায়ায় এ ধরনের অবৈধ মজুত চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সোমবারের (৬ এপ্রিল) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬ হাজার ২৪২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় মোট ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারকৃত তেলের মধ্যে রয়েছে:
ডিজেল: ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ লিটার
অকটেন: ৩৬ হাজার ৪০৫ লিটার
পেট্রোল: ৭৮ হাজার ৮৯৪ লিটার
অভিযানে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অবৈধ তেল মজুতকারীরা প্রায়ই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাদের আশ্রয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পেট্রোল পাম্প, ডিপো ও গোপন গুদামে অতিরিক্ত তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অবৈধ মজুত শুধু সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে না, বরং জ্বালানি তেলের সরবরাহব্যবস্থাকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। তাঁরা অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি অব্যাহত রাখতে হবে এবং যারা রাজনৈতিক প্রশ্রয় দিয়ে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি রোধে এ অভিযান চলমান থাকবে। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো অবৈধ মজুত বা কালোবাজারির তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে।
এ অভিযানের ফলে সাময়িকভাবে হলেও জ্বালানি তেলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রশ্রয় ছাড়া এ ধরনের বড় আকারের অবৈধ মজুত সম্ভব নয়। তাই শুধু অভিযান নয়, রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া নেতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
