ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলে আসা ভয়ংকর ‘গণরুম’ ও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতির নেপথ্যে ছাত্রশিবিরের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা তানভীর বারী হামিম।
তার দাবি, ছাত্রলীগের ব্যানার ব্যবহার করে শিবিরের নেতারাই মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও হল দখলের রাজনীতি পরিচালনা করত। সম্প্রতি এক মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হামিম এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, শিবিরের ব্যানারে থেকে আজ যারা বড় বড় কথা বলছে, তারা মূলত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। এরাই ছাত্রলীগে ডুকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন করত। এমনকি নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীর মতো বেয়াদবদের উত্থানও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হয়েছে।”
হামিম আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠছে। দীর্ঘ সময় ছদ্মবেশে থাকার পর এখন তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটছে। ছাত্রদল ক্যাম্পাসে থাকাতে দীর্ঘদিনের নিপীড়নমূলক এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসানে নবাগত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে তিনি মনে করেন।
বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ এখন অনেক বেশি সাবলীল। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন আর কোনো রাজনৈতিক টর্চার সেলের ভয়ে ভীত নয়। অভিভাবকদের চোখে-মুখেও এখন সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সম্প্রতি তানভীর বারী হামিমকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
