বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ২০২৬ বলছে, ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৮৪তম, স্কোর ১৯.২। দেশ এখন মাঝারি মাত্রার ক্ষুধার কাতারে আটকে গেছে। শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার ১২.৯%, যা ২০০১ সালের পর আবারও সর্বোচ্চ। উচ্চতার তুলনায় কম ওজন মানে শিশুটি সাম্প্রতিক সময়ে পেট ভরে খেতে পায়নি, আর এই ঝুঁকি সরাসরি অসুস্থতা ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে তাঁদেরকে।
অথচ আওয়ামী লীগের শাসনামলের বছরগুলোতে ক্ষুধা সূচকের স্কোর ভালো হয়েছিল ৪২ শতাংশেরও বেশি। জিএইচআইয়ের নিজের গবেষণা বলছে, শিশুদের খর্বাকৃতি দীর্ঘমেয়াদে কমার পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে সেই সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অভিভাবকদের শিক্ষার উন্নতি, বিশেষ করে মায়েদের শিক্ষা, সঙ্গে পরিবারের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন আর জনমিতিক পরিস্থিতির উন্নতিও এতে ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবেদন এই দীর্ঘ পথচলাকে বলেছে “এক প্রজন্মের অর্জন”। এই ভিত গড়তে সময় লেগেছে বছরের পর বছরের পরিকল্পনা, কৌশল, সর্বোপরি দেশের জনগণকে ভালো রাখার সদিচ্ছা। সেই গতি এখন থমকে গেছে, আর সবচেয়ে সংবেদনশীল সূচকটাই সবচেয়ে বাজে অবস্থায় পৌঁছেছে।
২০০১-০৬ সালের স্মৃতি তাই আর শুধু স্মৃতি থাকছে না। যে মঙ্গা বিদায় নিয়েছিল, তার ছায়া সদর্পে ফিরছে অবৈধ, দখলদার বিএনপির সরকারের হাত ধরে, যাদের প্রতি শাসনামলেই এই মঙ্গা কাটিয়েছে তার স্বর্ণযুগ।
