গত বছরের জুলাই-আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের গুলি চালিয়ে হত্যা করেছেন, এমন অভিযোগে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় কারাবন্দী একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি, লেখক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী অধ্যাপক শাহরিয়ার কবিরের শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন বিশ্বস্ত সুত্র।
কারাবন্দী অবস্থায় গত শুক্রবার দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে তার। কিন্তু এখন অব্দি উন্নত চিকিৎসা পাননি তিনি। দীর্ঘদিন ধরে হুইলচেয়ার ব্যবহার করা অধ্যাপক শাহরিয়ার কবির দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাকের পর বর্তমানে প্যারালাইজড অবস্থায় অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। এমনকি গত বছরের ১৬ই সেপ্টেম্বর যখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তারও আগে থেকেই তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করছেন। সেসময়ও তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।এর আগে, তাকে আদালতে তোলা হলে সেখানেও তিনি বারবার চিকিৎসায় অবহেলার কথা বলেছেন।
গত বছরের ২০শে অক্টোবর তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আলী হায়দারের আদালতে বলেন, “আমি হুইলচেয়ার ছাড়া হাঁটতে পারি না। আমার পায়ে সমস্যা রয়েছে। সঠিকভাবে আমার চিকিৎসা প্রয়োজন। গত চার মাস ধরে আমি অসুস্থ। কাশিমপুর কারাগারে আমার ট্রিটমেন্ট হচ্ছে না। আমি নানা রোগে আক্রান্ত। আমার ভালো ট্রিটমেন্টের জন্য একটু পুলিশ সুপারকে বলে দিতেন, তাহলে ভালো হতো।”
অধ্যাপক শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলন চলাকালে ১৮ই জুলাই যাত্রাবাড়ীর মনোয়ারা হসপিটালের সামনে গুলিতে নিহত হন রফিকুল ইসলাম। পরে ঢাকা মেডিক্যাল থেকে ১৯শে জুলাই আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে লাশ দাফন করা হয়।
সেই হত্যা মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, “শাহরিয়ার কবির এজাহারভুক্ত আসামি। তাদের নির্দেশে আন্দোলনে গুলি চালানো হয়। এতে অনেকে আহত হন, নিহত হন যাত্রাবাড়ীর রফিকুল ইসলাম। শাহরিয়ার কবির একজন নাস্তিক। মুসলমানদের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছেন। নাস্তিকরা আওয়ামী লীগ সরকারকে পছন্দ করে। আওয়ামী লীগ সরকারও নাস্তিকদের ভরণ-পোষণ করে। এই হত্যাকাণ্ডে তিনি জড়িত।”
অধ্যাপক শাহরিয়ার কবিরের আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ বলেন, “আসামির বিরুদ্ধে মামলায় সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ নেই। তিনি একজন শিক্ষক, কলামিস্ট। তিনি সারাজীবন শিক্ষকতা করেছেন। তার ভাগ্য খারাপ তিনি এর আগেও জেল খেটেছেন। এখন আবার যেতে হলো। তার হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, পায়ে রড লাগানো, অসুস্থ ব্যক্তি।”
প্রসঙ্গত, ইতোপূর্বে সমালোচনামূলক মতামত প্রকাশের জন্য ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারের আইনি নিপীড়নের শিকার হন অধ্যাপক শাহরিয়ার কবির। তখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২৪ বছর আগের সেই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শাহরিয়ার কবিরকে ‘বিবেকের বন্দি’ আখ্যা দিয়েছিল।