এক রাজার প্রচন্ড শক্তিশালী অনেকগুলো যুদ্ধবাজ ঘোড়া ছিলো। রাজা’র অনেক যুদ্ধ জয়ে এই যুদ্ধবাজ ঘোড়াগুলোর অসামান্য অবদান ছিলো, চারিদিকে তখন রাজার সুখ্যাতি।
রাজা ঘোড়া পোষার পাশাপাশি অনেকগুলো গাধাও পুষতো। তো ঘোড়ার পেছনে এত খরচ দেখে, উজির-নাজির প্রায়শঃই রাজার কাছে ঘোড়াগুলো নিয়ে অভিযোগ করতোঃ
“ঘোড়াগুলো বেয়াদব, সহজে বাগে আনা যায় না, তার উপর দিনের পর দিন কোন কাজেও লাগছে না, অথচ এদের পেছনে খরচ ঠিকই হচ্ছে”।
রাজা নিজেও লক্ষ্য করেছে আস্তাবলে ঘোড়াগুলোকে দেখতে গেলে ঘোড়াগুলো ঠিকমত সম্মান করে না। অথচ গাধার আস্তাবলে গেলে গাধাগুলো রাজার সারা গা-হাত-পা চাটা শুরু করে।
একদিন উজির-নাজির, রাজাকে পরামর্শ দিলো ঘোড়াগুলোকে বিক্রি করে দিতে, আর ঘোড়া বিক্রির টাকা দিয়ে পুরানো গাধাগুলোকে বেশি আদর যত্ন করতে সাথে বেশি করে আরো নতুন গাধা কিনতে।
তারপর যুদ্ধবাজ ঘোড়াগুলো বেশ দামে পাশের রাজ্যের দুর্বল রাজার কাছে বিক্রি করে দেয়া হল এবং অনেকগুলো গাধা কিনা হল।
কিছুদিন পরের কথা। পাশের রাজ্যের রাজা ‘ঘোড়া বেচা রাজা’র রাজ্যকে আক্রমন করলো এবং খুব সহজেই রাজ্য দখল করলো।
রাজ্যের নতুন রাজা, বন্দী রাজাকে জিজ্ঞাসা করলো, “তোমার মনে কোন প্রশ্ন জাগেনি কেন তুমি এই যুদ্ধে হারলে!”
বন্দী রাজা বললো “কেন?”
নতুন রাজা বললেন, তুমি হেরেছ কারণঃ
১) তোমার রাজা হওয়ার পিছনে যাদের (ঘোড়াদের) অবদান ছিলো, তাদেরকেই তুমি ভুলে গেছ।
২) তুমি চাটুকার গাধাকে ঘোড়ার চেয়ে বেশী গুরুত্মপূর্ণ মনে করেছ। তোমাকে ঘিরে থাকা গাধাদের কথায় সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছ। (তোমার উজির-নাজির’রাই ছিলো সত্যিকার গাধা)।
৩)সর্বোপরি গাধা প্রয়োজনীয় প্রানী হলেও যুদ্ধবাজ ঘোড়ার কাজ গাধা দিয়ে চালানো যায় না এটা তোমার মাথায় আসেনি। দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়ন ‘না’ করলে যা হয়
কোন বইয়ে, কোথায় বা কার লেখা মনে নেই কিন্তু গল্পটি সত্যিই চমৎকার এবং অনেক বেশি গভীর অর্থবহ।
তবে গল্প হলেও বাস্তবতার সাথে দারুণ মিল আছে। আমাদের দেশ, সমাজ, প্রতিষ্ঠান সব জায়গাতেই এই গল্পের ছায়া উপস্থিত।”(সংগৃহীত)