“বলো মির—
বলো মওদুদি মম পির।
পির বিহারি আমারই যত পির, ঐ শিকড় করাচির।
বল মির—
বলো একাত্তরের ইতিহাস ফাড়ি
বুলডোজারে ভেঙে দিয়ে বাড়ি
রিসেট বাটন জোরসে চাপিয়া
সায়মা ম্যামের আরশ কাঁপিয়া
লুটিয়াছি কত মিলিয়ন আমি জুলাই মাসের বীর,
মম ললাটে সুদ্র মহাজন জ্বলে—
ভিডিও দেখি ইলিয়াস-তিনিঞ্চির।
বলো মির–
আমি বিন লাদেনের তীর।
আমি নীলা মার্কেট, আমি মাংস, আমি হংস;
মুরাদনগরের শিশুরাজ, আমি জামাত ইসলামির অংশ।
আমি ধাপাধাপ, আমি ঠাপাঠাপ পিনাকীর।
আমি চোটপাট, আমি ভেঙে করি সব লুটপাট।
আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল,
আমি খেয়ে যাই যত কমিশন, যত বোয়াল-কাতল-শোল।
আমি চিনিয়াছি যত লাইন;
আমি তাড়াতাড়ি করি কাড়াকাড়ি,
আমি পিপিনুল, আমি নুরুল হকের পাইন।
আমি নবাব-নাতি, আমি ফেসবুকচিঠি তাসনিম জারাপ্পির;
আমি ডিগবাজি— নাখালপাড়ার সরোয়ার ফারুকির।
বলো মির—
চিরজাগ্রত শাদা পির।
আমি গাঞ্জা, আমি ডার্বি;
আমার সঙ্গে ডিগবাজিতে কোন কোন শালা পারবি?
আমি ভৃত্য-পাগল অন্ধ,
আমি বিজলির বেগে ছুটে যাই— পেলেই টাকার গন্ধ।
আমি জুলাইবীর, আমি ছায়াবট;
আমি ধুন্দল, আমি বিমানে বিলাই কম্বল;
রুমকি-চুমকি, ঘুমের মাঝে দিই হঠাৎ হুমকি;
খালি মাঠে দিই তিন গোল, করি হালুয়া-রুটির কোন্দল।
আমি তা-ই করি ভাই, যখন চাহে এ মন যা;
করি শিবিরের সাথে ঢলাঢলি,
ধরি হাছনের মতো আঞ্জা;
আমি সমন্বয়ক, মারি মাঞ্জা।
আমি পাটোয়ারি, আমি ভীতি এ-বিএনপির;
আমার কাছে শিশুতোষ খোদ মির্জা আলমগির।
বল মির—
আমি চেটে খাই যত ক্ষীর।
আমি বিভীষিকা, আমি মেট্রোরেলের অগ্নি,
বিএমডাব্লু চড়িছি এখন জুলাই করিয়া লগ্নি;
(জবাবদিহির ঊর্ধ্বে আমরা, সুধীর ভ্রাতা-ভগ্নী)!
নাহি সৃষ্টি, শুধু ধ্বংস, আমি সচিবালয়, আমি শ্মশান;
আমি পেশোয়ার, আমি মুলতান।
আমি কফিলের পুত, পাতে বিরিয়ানি, হাতে সান্ডা;
মম মগজ-মনে পৎপৎ করে পাকিস্তানের ঝান্ডা।
আমি কিশোরকণ্ঠ, আমি ছাত্রসংবাদ—
শিবিরে নেওয়ার আয়োজন চলে আস্তে এবং ধীর;
আমি আল-শামস, ছাত্রসংঘ— মুজাহিদ-নিজামির;
আমি টঙ্কার, আমি হুঙ্কার— রফিকুল মাদানির।
বল মির—
চুমু খায় শাদা পির।
আমি হাসনাত, করি বার্নিশ;
আমি ইউএসএ ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ।
আমি বর্জ্য, আমি আষাঢ়ে তুষারে ঝঙ্কার;
নীলা ইসরাফিলের শৃঙ্গার মহাহুঙ্কার।
আমি জানাক-জাশি— বৃন্ত ত্রিফুল, ধর্মানুভূতি-দণ্ড;
মবের হাতেই হোক না এ-দেশ লন্ড এবং ভন্ড।
আমি ছুপা দুর্বাসা, আসিফ স্যারের শিষ্য;
হায়, আল্লাহ্, খালেদ’ বলে, স্বদেশ করিব নিঃস্ব।
আমি বরের ঘরের গোপন পিসি, কনের ঘরের মাসি;
আমি আওয়ামি লিগের পাতলুন-তলে হেলমেট-পরা জাশি।
আমি রন্ধনঘরের কুমারীর নানি, নানির নয়নে সুরমা;
আমি ষোড়শীর বুকে সারজিস-প্রেম, আরবদেশের খুরমা।
আমি নাটকের পোলা বান্না,
জুলাই মাসে মুজিবের নামে কত না করেছি কান্না,
আগস্ট থেকে বক্ষে টেনেছি জোনায়েদ সাকি-মান্না,
(এসব দেখে গুমরে কাঁদেন জেডআই খান পান্না)।
এবি-এনসিপি রণক্লান্ত,
আমি সেইদিন হব শান্ত—
যবে একাত্তরের ‘জয় বাংলা’ দেশের কোথাও ধ্বনিবে না,
তিরিশ লক্ষ শহিদসংখ্যা ঘুণাক্ষরেও গনিবে না।
ইনকিলাব রণক্লান্ত,
ছাত্রলিগের পাতলুনে ছিনু— লিগ যদি তা জানত!
আমি চুরাশির কাগু—
স্বদেশের বুক করে রেখে যাব ছিন্ন,
দেব না কোথাও থাকতে আমি একাত্তরের চিহ্ন,
নেব না বিদায়, মানুষের কাছে হই না যত ঘৃণ্য।
আমি মিরজাফরের মির—
পিন্ডি ছাড়ায়ে দেখিতেছি জয় নাগরিক পার্টির।”
মূল লেখা : কাজী নজরুল ইসলাম
প্যারোডি : আখতারুজ্জামান আজাদ
২৯ আগস্ট ২০২৫