ইউনুসের মবের মুল্লুক! বাদি ছাড়া মবের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না! কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ নিজেই
মগের মুল্লুক এর কথা আমরা প্রায় সবাই শুনেছি। প্রাচীন মগ রাজার মুল্লুকে যা ইচ্ছা তা করা যেত কিন্তু কেউ কিচ্ছু বলতোনা, একেবারে চূড়ান্ত অরাজকতা চলতো বলে আমরা শুনেছি বা পড়েছি। কিন্তু কেউ দেখিনি সেই মুল্লুক কেমন, আর অরাজকতার ধরনটাই বা কেমন ছিল। নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজা আমাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছেন, আমরা সুযোগ পেয়েছি মগের মুল্লুক এক্সপেরিয়েন্স করার।
মগরাজা ইউনুসের এই দেশে এখন মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে হলে কাউকে বাদী হয়ে অভিযোগ করতে হবে, না হলে নাকি পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিতে পারবে না। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় হামলা চালিয়ে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)-সহ কয়েকজনকে মারধর করে পুলিশে দেয় পল্টন থানা জামায়াতে ইসলামির নেতা শামীম হোসাইনসহ নতুন মগের মুল্লুকের কয়েকজন সুবিধাভোগী। পুলিশ ‘মঞ্চ-৭১’ এর ব্যক্তিদের নিজেদের ‘হেফাজতে’ নেয় এবং সরকারপক্ষের নির্দেশে নিজেরাই মামলা দায়ের করে। পুলিশ বলছে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে অভিযুক্তদের অপরাধ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। ২৯ আগস্ট তাদের জামিন নামঞ্জুর করে সরকারের মুখ রক্ষা করেছেন মহামান্য আদালত।
অর্থাৎ সরকারের কোপানল থেকে বাঁচতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিজেরাই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। কিন্তু যারা এই উন্মুক্ত আলোচনা সভায় হামলা করেছিলো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে পুলিশ জানিয়েছে কেউ বাদি হয়ে মামলা না করলে পুলিশের কিছু করার নেই।
এমনকি পুলিশের চোখের সামনে যদি ঘটনা ঘটেও থাকে বা ঘটনাস্থলে উপস্থিত মানুষের সাথে কথা বলে অপরাধের ধরণ ও মাত্রা জানার সুযোগ থাকলেও বাদি ছাড়া পুলিশ অভিযোগ নিতে পারবে না বলে জানিয়েছে।
ঘটনার পর সারাদেশে উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মব সৃষ্টিকারীদের বিপক্ষে। সহিংসতা সৃষ্টিকারীরা জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী বলেও অনেক নেটিজেন প্রমাণ তুলে ধরেছেন। স্বাধীনতার পক্ষে কথা বললে নতুন বাংলাদেশে যে মবের শিকার হতে হয়, সেটা হয়তো এই প্রবীণ ব্যক্তিরা জানতেন না, বা জানলেও ভাবতে পারেননি যে তারাও এমন সন্ত্রাসের কবলে পড়বেন।
তারা ভাবতে পারেননি শান্তিতে নোবেল বিজয়ী একজন ব্যক্তি নেতৃত্বে যে দেশ চলছে, সে দেশে সবচেয়ে শান্তিতে আছে ও স্বাধীনতা ভোগ করছে তারা, যাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য ৭১ সালে লতিফ সিদ্দিকিরা যুদ্ধে গিয়েছিলেন।
গণমানুষের সব শেষ মবের দেশ বাংলাদেশ।