একটি দেশের জনসংখ্যা হচ্ছে ১৭ কোটি।সেই দেশের কওমী মাদ্রাসার সংখ্যা হচ্ছে ১৯ হাজার ১৯৯ টি।এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মাদ্রাসা হচ্ছে হেফাজত নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশে এমপিও ভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা হচ্ছে ৭ হাজার ৬২৪ টি। এছাড়াও প্রায় দুই হাজার অনিবন্ধিত মাদ্রাসা আছে। বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে , অথচ বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক প্রায় পাঁচ গুণ ও ২১ গুণ বড় ইরানেও এত মসজিদ নাই।এমনকি যেখানে থেকে ইসলামের আমদানি হয়েছে সেই সৌদি আরবেও আপনি এত মসজিদ খুঁজে পাবেন না।
১৮৬৬ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলায় ‘ দারুল উলুম দেওবন্দ ” নামে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলো ব্রিটিশরা। ব্রিটিশরা কোনকালেই নাকি মুসলমানদের বন্ধু ছিলো না ।তাহলে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসার করলো কেন? পৃথিবীর প্রথম কওমী মাদ্রাসার উৎপত্তি হচ্ছে ভারতে। এর আগে পৃথিবীর কোথাও কোন কওমী মাদ্রাসা ছিলো না।১৭৮০ সালে ব্রিটিশ গভর্ণর লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস সর্বপ্রথম ভারতের কলকাতায় আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেছেন।এর আগে পৃথিবীর কোথাও কোন আলিয়া মাদ্রাসা ছিলো না। এই কওমী মাদ্রাসা ও আলিয়া মাদ্রাসা কোনটাই পৃথিবীর কোন মুসলিম দেশ থেকে আসেনি , এই দুটোর কারিগর হচ্ছে ব্রিটিশ।এখন দেখছি পৃথিবীতে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় বন্ধু হচ্ছে ব্রিটিশরা। এমনকি মাওলানা ওহাবকে দিয়ে সৌদিআরবে ওহাবি মতবাদ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত করেছে ব্রিটিশরা।এরা মাধ্যমে তারা আরব বিশ্বকে কয়েক টুকরো করে ফেলেছে। তুর্কি সাম্রাজ্য ভেঙ্গে খান খান করে দিয়েছে।এই ওহাবীবাদ থেকেই মুলত আজকের জামায়াত, হেফাজত, আইএস , আল কায়েদা , তালেবান ও শত শত ইসলামিক জঙ্গীদের সৃষ্টি । বর্তমান বিশ্বে জঙ্গীবাদের অন্যতম মদদদাতা হচ্ছে ব্রিটিশ ও আমেরিকা। এজন্য হেফাজত ও জামায়াত জন্মের পর থেকেই ব্রিটিশ ও আমেরিকার গোলামীর নামে একের পর এক জ-ঙ্গী সংগঠন পয়দা করছে। মাদ্রাসা শিক্ষার নামে কোমলমতি শিশুদের মগজ ধোলাই করে তাদের জ-ঙ্গী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।এমনকি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত রেডিক্যাল অ্যাপহরিজম ছড়িয়ে মানুষকে মানুষ হত্যার জঙ্গীবাদে জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর পেছনে আছে হেফাজত ও জামায়াতের পেছনে আমেরিকার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ।কখনো নিজেকে প্রশ্ন করেছেন , মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট এই দেশে ৪০ টা জ-ঙ্গী সংগঠন ও শতাধিক ইসলামিক রাজনৈতিক দল কেন? প্লিজ, এখন থেকে নিজেদের প্রশ্ন করুন। এদের সমস্যা বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিব ও তার কন্যা শেখ হাসিনায় নয়। এদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ভুখন্ডকে আমেরিকার কাছে ইজারা দেওয়া।শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে এরা কোনদিনও সফল হতে পারবে না তা এরা বহু আগেই জেনে গেছে।তাই এরা গণভবন লুট করেছে এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পুড়িয়ে দিয়েছে। এরা শুধু বাংলাদেশের শত্রু নয় , এরা বিশ্ব মানবতার শত্রু।
মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বলে পৃথিবীতে কোন শিক্ষা ব্যবস্থাই ছিলো না। মুহাম্মদ (সঃ) জন্মের ৬০০ বছরেও পৃথিবীতে মাদ্রাসা বলতে কোন শব্দের অস্তিত্ব ছিলো না। ১২০০ শতাব্দীতে তুর্কি সাম্রাজ্যর মুহাম্মদ ঘুরী ভারতীয় উপমহাদেশ দখল করে আজমীরে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।এটাকে মাদ্রাসা না বলে মক্তব বলাটাই সঠিক। ছোটবেলায় আমরা এসব মক্তবের সাথে পরিচিত ছিলাম, সেখানে কোরআন শিক্ষা দেওয়া হতো। ধীরে ধীরে বড় হতে হতে ধর্ম ব্যবসায়ী জামায়াতে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামের সাথে পরিচয় ঘটলো বাংলাদেশের মুসলমানদের। প্রশ্ন হচ্ছে ১৯৪১ সালে পাকিস্তানে মওদুদীর হাত ধরে জামায়াতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আগে এই উপমহাদেশের সব মুসলমান কি কাফের ছিলো? জামায়াত ও হেফাজত প্রতিষ্ঠার আগে কি বাংলাদেশের মানুষ মুসলমান ছিলো না?
আজকাল বাংলাদেশের অলিতে গলিতে লক্ষ্য করলেই দেখবেন ব্যাঙের ছাতার মতো মাদ্রাসা । পৃথিবীর আর কোন দেশে এত মাদ্রাসা নেই।এমনকি পৃথিবীর ৫৭ টা মুসলিম দেশ এক করলেও বাংলাদেশের সমান মাদ্রাসা হবে না। অথচ এই বাংলাদেশে কোন পীর, আউলিয়া ও দরবেশের জন্ম হয়নি। বরং এই দেশে পয়দা হয়েছে জিন্দা অলী শফিকুর রহমান নামক জাসদের লুঙ্গির তলা থেকে বের হওয়া জামায়াতের ভন্ড পীর।এই দেশে আহাজারীদের মতো ভন্ড পয়দা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় গিয়ে বিচে মজা করবে আর দেশে এসে মানুষকে ধর্মীয় জ্ঞান দিবে।একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন জাকির নায়েক যাকে ইসলামী স্কলার বলে প্রচার করছে তার জন্মও ভারতে। এদের পেছনে সম্পূর্ণ বিনিয়োগ হচ্ছে ব্রিটিশ ও আমেরিকার।এরা মূলত ভারতীয় উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক জ-ঙ্গীবাদ সৃষ্টি করে বিলিয়ন ডলার কামাই করছে ইসলামের নামে ধর্ম ব্যবসা করে।
এরা ধর্ম সম্পর্কে মানুষকে ভুল ব্যাখা দিয়ে উগ্রবাদী করে বোকা বানাচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ধর্ম হচ্ছে ভন্ড কাঠমোল্লাদের একটি অর্থনৈতিক আয়ের উৎস।বিনা পুঁজিতে ব্যবসার নাম হচ্ছে ধর্ম ব্যবসা।এর মাধ্যমে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে অলিতে গলিতে ব্যঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।
ওষুধ শিল্প , ট্রাস্ট , ফাউন্ডেশন, এতিমের জন্য খয়রাত খানা করে প্রতিবছর হাতিয়ে নিচ্ছে প্রায় দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশে যত এতিমখানা আছে তা এই পৃথিবীর কোথাও নেই।এত লক্ষ লক্ষ এতিম বাংলাদেশে এলো কোথা থেকে? এসব এতিমের নাম করে বিদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে কাঠমোল্লাদের পেটে। ধর্মের নামে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান খুলে এরা মানুষকে যুগ যুগ ধরে ভোদাই বানাচ্ছে।সুদখোর সুদের প্রতিষ্ঠান খুলে প্রচার করছে ১০০ % হালাল! চিকিৎসাকে পর্যন্ত এরা ইসলামীকরণ করছে, এমনকি ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত।এর মাধ্যমে এই কাঠমোল্লারা বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে।
উইলিয়াম হান্টার নামে এক ব্রিটিশ ভদ্রলোক মুসলমানদের হাওয়া দিতে দিতে বেলুন বানিয়ে ফেলেছেন ( দ্য ইন্ডিয়ান মুসলমান’স) বই লিখে। সেই বইয়ের একটি জায়গায় তিনি আলিয়া মাদ্রাসা ও মডারেট মুসলমানদের কথা উল্লেখ করেছেন।দাড়ি শেভ করে কীভাবে মুসলমানরা ব্রিটিশদের মতো মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে।১৭৮০ সাল থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত অধ্যাপক হেমিল্টন হার্লি থেকে শুরু করে ২৫ জন অধ্যক্ষ ছিলেন ইংরেজ খ্রিষ্টান।এরাই আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদের কোরআন, হাদিস ও ইসলামিক শিক্ষা দিতো। হাস্যকর বিষয় হচ্ছে ব্রিটিশরাই এই উপমহাদেশে ইসলামিক শিক্ষার প্রসার করেছে, মুসলমানরা নয়। এজন্য এই দেশে মুসলমানদের থেকে হাফপ্যান্ট মার্কা ইসলামিক জঙ্গীদের সংখ্যা বেশি।
জার্মানির হিটলার মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুডের নাম করে হাসান আল বান্নার মতো জ-ঙ্গী সৃষ্টি করে মিশরের মুসলমানদের গলা কেটেছেন। আমেরিকা তার গোলাম সৌদি আরবকে দিয়ে পাকিস্তানে মওদুদীর মাধ্যমে জামায়াতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে মুসলমানদের কচুকাটা করেছেন। ভারতীয় উপমহাদেশে জামায়াতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শুধু মুসলমানদের দিয়ে মুসলমান হত্যা করার জন্য। পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামী প্রায় কয়েক লক্ষ শিয়া মুসলমানদের হত্যা করেছে। এখনও জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানে যে সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তার গোলাম হয়ে বেলুচিস্তান , পশতুন ও সিন্ধু প্রদেশের মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও এই জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানের গোলামী করে আমাদের ত্রিশ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে । ১৯৯০ সালে এই জামায়াতে ইসলাম আমেরিকার দালালী করে আফগানিস্তানে প্রায় ২ লাখ মুসলমান হত্যা করেছে।এতে করে সবসময় জামায়াত নামক ভন্ডদের লাভ হয়েছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হেফাজত , এনসিপি , ইনকিলাব জিন্দালাশ, লস্কর ই তৈয়বা, জঈশ ঈ মুহম্মদ, আল কায়েদা , তালেবান এমনকি রোহিঙ্গাদের জঙ্গি সংগঠন আরসার তৈরি করে এরা এই পর্যন্ত আমেরিকা থেকে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ভাগিয়ে নিয়েছে।এই অর্থের বড় একটি অংশ এরা খরচ করেছে মানুষ হত্যায়। এজন্য আমাদের দেশ ১৭ কোটি মানুষের দেশ হয়েও এই দেশে ভন্ড আহাজারি, দেড় ফুটি বক্তা , এন্টারকটিক ইব্রাহিম , এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ও তিনিঞ্চি পিনাকীর মতো আমেরিকার দালাল জন্মায় । বাংলাদেশের মত ওয়াজের নামে ভন্ডামি পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর আর কোন মুসলিম দেশে নাই। আমেরিকা ও পশ্চিমাদের দালাল হয়ে এরা পাকিস্তানী আইএসআই এর সাথে মিলে বাংলাদেশের ভেতরে পাকিস্তান জিন্দাবাদ দিয়ে প্রায় ৪০ টি জ-ঙ্গী সংগঠন তৈরি করেছে। শীতকালীন বক্তারা এখন হয়ে গেছেন টাকা কামাইয়ের ইউটিউব, ফেসবুক ও টিকটকের ধান্দাবাজ বক্তা। ইসলাম এই ভন্ডদের কাছে মানুষকে ভোদাই বানিয়ে টাকা কামাইয়ের মেশিন ছাড়া আর কিছুই নয়।।
সত্য সবসময় সুন্দর
২৭-০৮-২০২৫