অজয় বাঙালী
ছাত্র-জনতাকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষুব্ধ করে সেনা সমর্থিত ছাত্র অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে মুহাম্মদ ইউনূস সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারে ‘ছাত্র প্রতিনিধি’ হিসেবে উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া।
দপ্তর হিসেবে তাকে দেওয়া হয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান। সেসময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব দেওয়া হলেও তাকে সরিয়ে পরবর্তীতে এ দপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বুধবার পদত্যাগ করার পরে আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া’র ‘স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়’-এর দ্বায়িত্ব কেউ নিতে চাচ্ছেন না। বুধবার দুপুরের পর আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে দপ্তরের নতুন দ্বায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিকালে প্রধান উপদেষ্টা সিনিয়র কয়েকজন উপদেষ্টাকে ডেকে নিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন এবং তাদেরকে দ্বায়িত্ব নিতে অনুরোধ করেন ।
কিন্তু উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই দূর্নীতি আর অনিয়মের কেন্দ্রে বারবার উঠে এসেছে ‘ছাত্র প্রতিনিধি’ হিসেবে উপদেষ্টা হওয়া সরকার পতনে নেতৃত্ব দেয়া এ ‘সমন্বয়ক’। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্য, প্রকল্পে বাড়তি ব্যয়, পিতার অনিয়ম’সহ একাধিক অভিযোগ উঠে। গত শীতে ক্রিড়া মন্ত্রানালয়ের টাকায় নিজের বন্ধুদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য পিএসকে দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে দামী র্যাকেট কিনিয়ে আনেন, যার একেকটার দাম পড়েছিল ৪০ হাজার টাকার উপরে। এছাড়া আন্তর্জাতিক খাতি সম্পন্ন সব ব্র্যান্ডের অনেক দামী কেডস, জ্যাকেট ও বিভিন্ন ব্যবহার্য উপকরন কিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচিত হন। এছাড়া বিভিন্ন চাঁদাবাজির ঘটনার হোতা হিসাবেও আসিফ মাহমুদের নাম আসে, ওয়েস্টিনের সামনে সিসিটিভি ফুটেজে চাদাবাজদের সাথে কথা বলা, R সিরিজের দামী স্পোর্টোস বাইক থেকে শুরু করে নীলা মার্কেটে হাসের মাংস বা সচিবয়ালয়ে আগুন, এমন অনেক বিতর্কিত ঘটনার সাথে আসিফ মাহমুদের নাম জড়িয়ে আছে।
এজন্য প্রধান উপদেষ্টা প্রথমে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, এরপর অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন, সড়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকে আসিফ মাহমুদের স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব নিতে বললেও তারা কেউ রাজি হননি।
সবাই যখন নানা কারণ দেখিয়ে দায় এড়াতে চাচ্ছিলেন তখন শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্বে থাকা আদিলুর রহমান’কে একপ্রকার জোর করেই আসিফ মাহমুদের দপ্তর ‘গছিয়ে দেওয়া হয়’।
যেসব অনিয়মে নাম জড়িয়েছেন আসিফ মাহমুদ
গুলশানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের সাবেক এক এমপির বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই ভিডিওতে গুলশানে চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেফতার ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুকে উপদেষ্টা আসিফের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করতে দেখা যায়। তবে এমন কোনো ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। তার দাবি পূর্ব পরিচয় থাকলেও ২০২৪ সালের অগাস্টের পর জানে আলম অপুর সাথে তার আর কখনোই দেখা হয়নি।
ভিডিওতে অপুকে বলতে শোনা যায়, ১৬ জুলাই রাত পেরিয়ে ১৭ তারিখ ভোর চারটা ১০ থেকে ৪০ মিনিট–– এই আধাঘণ্টার মধ্যে গুলশান ২ পার হয়ে ওয়েস্টিন হোটেলের নিচে সাদা সিএফমোটো বাইকে হেলমেট পরা অবস্থায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার সঙ্গে কথা বলেন।
তার বলা এই কথাগুলোর ওপর দিয়ে চলতে থাকে একই তারিখের রাত চারটা ১০ থেকে ১১ মিনিটের একটি সিসিটিভি ফুটেজ। সেখানে লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হয় একটি অংশ। এরপরই একটি বাইককে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।
রাতে যে ভাই আসছে শুধু সেই ভাই না, “সব ভাইরাই এতে জড়িত” দাবি করে অপু বলেন, “এটা ওপেন সিক্রেট”।
তবে এ অভিযোগও অস্বীকার করেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেখানে রাতের খাবার খেতে মাঝে-মধ্যে ঢাকায় পূর্বাচলের তিনশ ফিট সংলগ্ন নীলা মার্কেটে অথবা ওয়েস্টিন হোটেলে যাওয়া হয়’।
এরপর থেকেই হাঁসের মাংস খাওয়ার কথা বলে সমালোচনার মুখে পড়েন আসিফ মাহমুদ।
‘৩০০ কোটির মালিক এপিএস’-এর দূর্নীতিতেও নাম জড়ায় আসিফের
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এপিএস মো. মোয়াজ্জেম হোসেন অবৈধভাবে ৩০০ কোটি টাকা সম্পদ অর্জনে দুদকে অভিযোগ জমা পড়লে পদ থেকে সরিয়ে দেন এ উপদেষ্টা।
তবে দুদকে অভিযোগ জমা পড়লেও আসিফ মাহমুদের হস্তক্ষেপে সে তদন্ত তখন থেকে যায় বলে অভিযোগ করে গণ অধিকার পরিষদ।
সেসময় দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মঈদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যে সরকার যেমনভাবে চালাতে চায়, তেমনভাবেই দুদক চলে, এটা দুদকের বরাবরের ট্র্যাডিশন। সরকারের মর্জি-মেজাজ বুঝে দুদক কাজ করে, এটাই দেখা গেছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন যারা আছেন, তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা হোক-এমন সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থাও নেই। অতীতেও এরকম ছিল না। এই অভাবের কারণেই দুদকের এমন মাজা ভাঙা অবস্থা।’
অস্ত্র নিয়েও ধরা খান বিমানবন্দরে
মরক্কো সফরে যাওয়ার সময় আসিফ মাহমুদ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ের সময় তাঁর ব্যাগে অস্ত্রের ম্যাগাজিন থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি।
সেসময় আসিফ মাহমুদ ফেসবুকে এ বিষয়ে এক ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে আমার লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র আছে। গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের ওপরে যেভাবে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে কয়েক দফা তাতে রাখাটাই স্বাভাবিক। যখন সরকারি প্রটোকল বা সিকিউরিটি থাকে না, তখন নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে লাইসেন্সড অস্ত্র রাখা।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে’ অংশগ্রহণের জন্য আজ ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে ফ্লাইট ছিল। ভোরে প্যাকিং করার সময় অস্ত্রসহ একটা ম্যাগাজিন রেখে এলেও ভুলবশত আরেকটি ম্যাগাজিন ব্যাগেই রয়ে যায়। যেটা স্ক্যানে আসার পর আমার প্রটোকল অফিসারের কাছে হস্তান্তর করে আসি। বিষয়টি সম্পূর্ণ আনইন্টেনশনাল। শুধু ম্যাগাজিন দিয়ে আমি কী করব ভাই? ইন্টেনশন থাকলে অবশ্যই অস্ত্র রেখে আসতাম না। এখানে অবৈধ কিছু না থাকলেও অনেকের জন্যই এটা আলোচনার খোঁড়াক (খোরাক) বটে।’
সংবাদমাধ্যমকে চাপ প্রয়োগ করে এ বিষয়ক সংবাদ সরানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘চাপ দিয়ে নিউজ সরানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই ঘটনার পর আমি টিমসহ টানা ১০ ঘণ্টা ফ্লাইটে ছিলাম। ট্রানজিটে নেমেও দীর্ঘক্ষণ পর অনলাইনে এসে দেখতে পাচ্ছি যে এত কিছু ঘটেছে। নাগরিক হিসেবে আপনারও যদি নিরাপত্তাঝুঁকি থাকে, যথাযথ নিয়ম ফলো করে আপনিও অস্ত্রের লাইসেন্স করতে পারেন।’
যদিও বয়স আর যথাযথ ট্যাক্স না দেওয়ায় আসিফ মাহমুদের লাইসেন্স পাওয়া বিধিসম্মত ছিল না বলেও আইনের ব্যাখ্যা তুলে ধরে একাধিক বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেন।
পিতার অনিয়মেও সমালোচনার মুখে আসিফ মাহমুদ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার বাবার ঠিকাদারি লাইসেন্স আর প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে এক সংখ্যালঘু শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায়ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
পিতার ঠিকাদারি কাজের জন্য ক্ষমা চাইলেও সংখ্যালঘু নারী শিক্ষিকাকে নির্যাতনের ঘটনাকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দায় এড়িয়েছেন আসিফ মাহমুদ।
পিতার লাইসেন্স নিয়ে সমালোচনার সময়ে তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘গতকাল রাত ৯টার দিকে একজন সাংবাদিক কল দিয়ে আমার বাবার নামে ইস্যুকৃত ঠিকাদারি লাইসেন্সের বিষয়ে জানতে চাইলেন। বাবার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হলাম তিনি জেলা পর্যায়ের (জেলা নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ারের কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত) একটি লাইসেন্স করেছেন। বিষয়টি ওই সাংবাদিককে নিশ্চিত করলাম। তিনি পোস্ট করলেন, নিউজও হলো গণমাধ্যমে। নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে তাই ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করলাম।’
আসিফ জানান, তার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক। স্থানীয় একজন ঠিকাদার কাজ পাওয়ার সুবিধার্থে বাবার পরিচয় ব্যবহার করার জন্য বাবাকে লাইসেন্স করার পরামর্শ দেন। বাবাও তার কথায় জেলা নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার থেকে একটি ঠিকাদারি লাইসেন্স করেন।
এদিকে আসিফের স্কুল শিক্ষক পিতা বিল্লাল হোসাইনের বিরুদ্ধে রয়েছে সংখ্যালঘু শিক্ষিকা নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ।
গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর একই এলাকার আকুবপুর ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটে আরও একটি ঘটনা। এই ঘটনার ভুক্তভোগী ওই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শিখা রানীর অভিযোগ, ওইদিন তাকে স্কুলের একটি কক্ষে আটকে রেখে প্রথমে পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হলে একপর্যায়ে তার ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন।
দীর্ঘ ৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ওই কক্ষে অবরুদ্ধ করে রেখে বিবস্ত্র করেও চালানো হয় নির্যাতন। পরে তাকে স্কুল থেকে বের করে ঘুরানো হয় গ্রামের প্রধান সড়কগুলোতে। যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই ভিডিওতে শিখা রানীকে হেনস্থাকারীদের দলে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবা ওই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষক বিল্লাল হোসাইনকেও দেখা যায়।
এ বিষয়ে শিখা রানী বলেন, স্কুলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আসিফের বাবা বিল্লাল হোসেনকে ২০১৪ সালে বহিষ্কার করা হলে তখন আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হয়েছিলাম। এটাই আমার অপরাধ। এখন আমার ছাত্র আসিফ উপদেষ্টা হওয়ার পর খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু ছেলে উপদেষ্টা হওয়ার পর তার বাবা আমার প্রতি সেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। শিমুল চেয়ারম্যান, সাত্তার মেম্বার, সালাউদ্দীন ও বাশারদের দিয়ে আমাকে নির্যাতন করেছেন।
এ ঘটনায় আসিফের বাবা বিল্লাল হোসেন ও শিমুল চেয়ারম্যানসহ দোষীদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি। আদালতে মামলা করা হলে সেটিও খারিজ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন শিখা রানী।
ওই স্কুলের তৎকালীন সভাপতি স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর অভিযোগও প্রায় একই রকম। সেই সময় অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় এখন ছেলে উপদেষ্টা হওয়ার পর তারা প্রতিশোধ নিচ্ছে বলে দাবি তার।
মোহাম্মদ আলী বলেন, বিল্লাল হোসেন প্রধান শিক্ষক থাকাকালে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং আমার (মেনেজিং কমিটির সভাপতি) স্বাক্ষর জাল করে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা তুলে নিয়েছিলেন। আমাদের কমিটি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় বার বার তার কাছে হিসাব চাইলেও তিনি দিতে পারেননি। এসব কারণে তাকে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছিল। এখন ছেলে উপদেষ্টা হওয়ার পর আমার পরিবারকে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে হয়রানি করে আসছে।
মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, তাকে চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে রিমান্ডের নামে চরম নির্যাতন করা হয়। পরে আসিফের বাবার সহযোগী মাসুদের মাধ্যমে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং গ্রামে সামাজিক কোনো কাজে অংশ না নেওয়ার মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেতে হয় তাকে।
এছাড়াও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বাবা তার লোকজন দিয়ে স্থানীয় মাছ চাষী দুলাল চন্দ্রের পুকুর দখল ও গাছ কেটে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন ওই চাষী। এ ঘটনায়ও শিমুল চেয়ারম্যান, সাত্তার মেম্বার, সালাউদ্দীন, মাসুদ ও বাশাররা জড়িত বলেও অভিযোগ এই ভুক্তভোগীর।
