নির্বাচনের নামে ঘোষিত তফসিলকে ‘প্রহসন’ ও ‘অবৈধ’ আখ্যায়িত করে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষ নেতারা। আজ এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই তফসিলকে অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের মৌলিক অধিকার হরণের ‘প্রকাশ্য ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেছেন।
বিবৃতিতে সাবেক ছাত্রনেতারা বলেন, শুধু তফসিলই নয়, এই অবৈধ তফসিল প্রণয়ন ও ঘোষণার সঙ্গে যারা জড়িত, তারাও সম্পূর্ণ অবৈধ, অযোগ্য এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা অভিযোগ করেন, দেশ বর্তমানে চরম নৈরাজ্য, ভয়াবহ অপশাসন ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী ঐতিহাসিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পরিকল্পিতভাবে রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে রাখতে দেশি-বিদেশি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ঘোষিত এই তফসিল সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি বহিঃপ্রকাশ।
ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “আমরা এই অবৈধ তফসিলকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এটি জনগণের বা গণতন্ত্রের জন্য নয়, বরং এটি অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটি নগ্ন প্রচেষ্টা মাত্র।”
গণতন্ত্র হত্যার মাধ্যমে কোনো স্বৈরশাসন স্থায়ী হতে পারে না উল্লেখ করে তারা সতর্কবানী উচ্চারণ করেন যে, অবৈধদের দ্বারা ঘোষিত এই তফসিল দেশের জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।
বিবৃতিতে সমগ্র জাতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, স্বাধীনতার চেতনা রক্ষা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সকল দেশপ্রেমিক নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অবৈধ তফসিলের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক গণপ্রতিরোধ’ গড়ে তুলতে হবে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অবৈধতা ও দমন-পীড়নের দেয়াল যত উঁচু হোক না কেন, জনতার অদম্য শক্তির কাছে তা ভেঙে পড়বে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ হলেন
অসীম কুমার উকিল, মাঈনউদ্দিন হাসান চৌধুরী, ইকবালুর রহিম, একে এম এনামুল হক শামীম, বাহাদুর বেপারী, লিয়াকত সিকদার, নজরুল ইসলাম বাবু, মারুফা আক্তার পপি, এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, মাহমুদ হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, বদিউজ্জামন সোহাগ, সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সাইফুর রহমান সোহাগ, এস এম জাকির হোসাইন, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, গোলাম রাব্বানী, আল নাহিয়ান খান জয় এবং লেখক ভট্টাচার্য।
