
।।হামিদ মোহাম্মদ।।
বিজয়ের প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর জাতির জন্য শোকাবহ দিন। এদিন পরাজয়ের পূর্বমুহূর্তে পাকহানাদার বাহিনি ও তাদের দোসর আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনি সম্মিলিতভাবে দেশের সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, লেখক সাংবাদিকদের ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুরের নির্জন স্থানে হত্যা করে। কাউকে চোখ বেঁধে, কাউকে ধোকা দিয়ে নানা কৌশলে অপহরণ করে এ নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় কুখ্যাত এইসব বাহিনি।
আজ ৫৪ বছর পর দেখা যাচ্ছে সেইসব সূর্য সন্তানদের বিরুদ্ধে সেই জারজগাষ্ঠীর সন্তানদের মুখে নয়া বয়ান। এই জারজ সন্তানরা জামায়াত ও উগ্রবাদী পাকিন্তানপন্থী্দের কোলে লালিত, তাদের রক্তবাহিত বাংলার কুসন্তান।এদের মধ্যে তথাকথিত ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, ব্যারিস্টার ফুয়াদ, হাদী, ফারিয়া নামক কুলাঙ্গার এবং জামায়াত ইসলামীর নেতাপাতিনেতারা নানা আস্ফালন দেখাচ্ছে। শাহরিয়ার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’কে বলছে ‘বিশ্বাসঘাতক’, ফূয়াদ বলছে ‘দেশ স্বাধীন হয়েছে ২০২৪সালের ৫ আগস্ট’। ফারিয়া বলছে ‘নিজামীর আদর্শে এখন দেশ গড়বে।’
যারা একাত্তরে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের সন্তানদের মুখে স্বাধীনতাবিরোধী এসব কথা শুধু উচ্চারণ নয়, রীতিমত দেশদ্রোহিতা। কিন্তু পাপেট অবৈধ ইউনুস সরকার নীরব, এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া তো দুরের কথা, বরং আশকারা দিয়ে যাচ্ছে। তাদের পোষছে, তোষণ করছে এবং সেও বলছে রিসেট বাটনে একাত্তর মুছে গেছে।
শেখ মুজিব বিশ্বাসঘাতক মানে, পাকিস্তান ভেগেছেন বিশ্বাসঘাতকতা করে। একথার অর্থ তারা পাকিস্তানপন্থী। পাকিস্তান তাদের স্বাধের দেশ। তাদের প্রিয় পাকিস্তানকে ভাঙার অপরাধে শেখ মুজিব বিশ্বাসঘাতক,দোষী।
যারা একাত্তরে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তারা এখন দেশপ্রেমিক, ভেঙে যাওয়া পাকিস্তানকে জোড়া লাগাতে গোলাম আযম নিযামীর আদর্শে দেশ পুনরায় পাকিস্তান হয়ে যাবে তাদের তত্ত্বতালাবিতে, পরিচর্যায়, ভোজবাজিতে।
কারণ তাদের বিশ্বাস, একাত্তরে ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সৃষ্টির বুদ্ধিবৃত্তিক স্বপ্নবান অংশকে তাদের পূর্বসূরীরা খতম করে দিয়েছে। এতে বাংলাদেশ রক্ষার বুদ্ধিবৃত্তিক পথ ধ্বংস করে দিয়েছে, তাই তাদের এইপথ সুগম এখন। এই পথেই ডা. শফিকরা বর্তমানে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ এমনকি বামদের লুঙ্গির তলে বেড়ে পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার হয়েছে। ভবিষ্যতে পুরো রাষ্ট্রক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে এবং এজন্য প্রক্সিযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে।
আমি ২০১৩ সালে একটি নিবন্ধে লিখেছিলাম,‘একাত্তরে যারা আত্মসমর্পন করেনি’। অনুসন্ধানি এ লেখায় ধরিয়ে দিয়েছিলাম, আমাদের মাঝে এ আত্মসর্মপন না করা গুপ্ত ঘাতকরা কিভাবে বেড়ে উঠছে এবং দেশকে আবার পাকিস্তান বানানোর মহড়া দিচ্ছে। এ সময় অনেকই মনে করেছিলেন, এসব লিখে কী লাভ।
কিন্তু ২০২৪ সালে এসে প্রমাণিত হয়েছে এই গুপ্ত ঘাতকরা কতো শক্তিশালি হয়ে উঠে দেশকে তালেবানী ও পাকি রাষ্ট্র বানানোর পথে নিজেদের সংহত করেছে। এখন এদের টুটি চেপে ধরার সময় আর নেই, তারাই এখন দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা এদের টুটি চেপে ধরার সুযোগ হাতছাড়া করে দিয়েছি, শত্রুকে মাথায় উঠার পথ তৈরি করে এখন হতভম্ব।
এরা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে নানা কটাক্ষ করছে, জাতির পিতাকে বলছে ‘বিশ্বাসঘাতক’। অথচ, তারাই বিশ্বাসঘাতক, তাদের পূর্বপুরুষরাই বিশ্বাসঘাতক। এই বিশ্বাসঘাতকদের বলছি, ‘জেতা অনেক সময় জেতা নয়, হেরে যাওয়া এক সময় হেরে যাওয়া নয়।’ তবে সত্য কোনোদিন হারে না। বাংলাদেশ সত্য, বাঙালি সত্য,বাঙালি জাতীয়তাবাদ সত্য। তোমরা এ সত্যের তলে চাপা পড়ে একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে পতিত হবেই। ইতিহাস অপেক্ষা করছে তোমাদের পরিণতি দেখতে। জয় হাউক ‘জয়বাংলা’র। তাই এবাবের শপথ হউক-‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের অঙ্গীকার,রুখবো এবার রাজাকার’।
