লক্ষ্মীপুর, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫: বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের ত্রিমুখী পাল্টাপাল্টিতে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীপুরে ফের নৃশংস অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা এলাকায় বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বসতঘরে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এতে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়ে মারা গেছে তার ৭ বছরের কন্যাশিশু আয়েশা। গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন ও তার দুই কন্যা বিথি আক্তার এবং স্মৃতি আক্তার।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন সপরিবারে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। দুর্বৃত্তরা ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘুমন্ত শিশু আয়েশা ঘটনাস্থলেই পুড়ে মারা যায়।
অগ্নিদগ্ধ বেলাল হোসেনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার দুই কন্যা বিথি ও স্মৃতির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকার বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের শরীরের বেশিরভাগ অংশ দগ্ধ হয়েছে।
ভবানীগঞ্জ বিএনপির সভাপতি আজাদ হোসেন বলেন, ‘গভীর রাতে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে এক নিরীহ শিশু মারা গেল এবং তিনজন গুরুতর আহত হলেন। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন, তিনপক্ষের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর থেকে। দুদিন আগে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বেসরকারি টেলিভিশনের নির্বাচনি টকশোতে প্রার্থীকে প্রশ্ন করা নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৫ই ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে জামায়াত প্রার্থীর উঠান বৈঠকে বিএনপি নেতার বাঁধাদানের খবর পাওয়া গিয়েছিল। এইসকল পাল্টাপাল্টি হামলা সংঘর্ষের রেশ ধরে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারনা করছেন এলাকাবাসী।
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। নিহত এক শিশুর মরদেহ এবং তিনজন দগ্ধকে উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তদন্ত চলছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটি পরিকল্পিত নাশকতা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠলেও পুলিশ এখনো কোনো গ্রেফতার করেনি। লক্ষ্মীপুরে রাজনৈতিক সহিংসতার এই ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
