রাশিয়ার সরকার শনিবার (২০ ডিসেম্বর) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা চুক্তি বাতিল করার অনুমোদন দিয়েছে। বাতিল হওয়া চুক্তির তালিকায় রয়েছে জার্মানি, পোল্যান্ড, নরওয়ে, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া, বেলজিয়াম এবং চেক প্রজাতন্ত্র।
এই চুক্তিগুলো ১৯৯২ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং শীতল যুদ্ধ পরবর্তী সামরিক-রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ ছিল। রাশিয়ার সরকারি আইনি পোর্টালে প্রকাশিত আদেশের মাধ্যমে এই চুক্তিগুলোর আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিকল্পিত চুক্তি বাতিল প্রক্রিয়া একসময় রাশিয়াকে ইউরোপের সঙ্গে সমন্বিত করার জন্য গড়ে ওঠা নিরাপত্তা সহযোগিতা কাঠামোর ধ্বংসের প্রতীক। চুক্তিগুলো প্রায়শই সামরিক সংযোগ, যৌথ মহড়া ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, তবে ক্রিমিয়ার দখল (২০১৪) এবং ইউক্রেনে ২০২২ সালের আক্রমণের পর থেকে এগুলো মূলত নিষ্ক্রিয় ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত মস্কো ও পশ্চিমাদের মধ্যে দূরত্বের গভীরতা নির্দেশ করছে। এটি কেবল নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক বহিষ্কারের সীমায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রাক্তন সোভিয়েত যুগের ভিত্তিমূলক চুক্তি সক্রিয়ভাবে ভাঙার দিকে রাশিয়ার পদক্ষেপকে প্রতিফলিত করছে। এছাড়া, রাশিয়ার কৌশলগত পরিবর্তনকে ইঙ্গিত দিচ্ছে—এখন অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে সহযোগিতার বদলে সংঘাতের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। ফলে, মহাদেশে নতুন এক কঠোর রাজনৈতিক ব্লকের যুগ আরও দৃঢ় হচ্ছে।
