ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫: যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী থিংক ট্যাঙ্ক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (সিএফআর)-এর সেন্টার ফর প্রিভেনটিভ অ্যাকশন (সিপিএ) প্রকাশিত ‘প্রিভেনটিভ প্রায়োরিটিজ সার্ভে ২০২৬’-এ বিশ্বের ৩০টি সম্ভাব্য সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই বার্ষিক প্রতিবেদনে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির আলোকে আগামী বছরে সংঘাত, সহিংসতা বা যুদ্ধের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে উচ্চ (Tier I), মধ্যম (Tier II) এবং সামান্য (Tier III) ঝুঁকির তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে সামান্য ঝুঁকি (Tier III) বিভাগে রাখা হয়েছে, যা বৈশ্বিক পরিস্থিতির তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম উদ্বেগজনক বলে মনে হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই স্তরের সব দেশেই যে কোনো সময় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়ে পরবর্তী স্তরে উন্নীত হতে পারে।
প্রতিবেদনে প্রতিটি দেশের ঝুঁকির কারণ নিয়ে সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে “worsening governance crisis” বা বাংলায় “জঘন্য শাসনের সংকট”।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল প্রশাসন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সংখ্যালঘু নিপীড়ন এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি এই জঘন্য শাসনের প্রতিফলন। এর ফলে দেশে অরাজকতা বাড়ছে, যা আগামী বছরে আরও সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা এমনকি ব্যাপক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
উচ্চ ঝুঁকি (Tier I): এই স্তরে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট সংঘাত (গাজা, ইরান-ইসরায়েল), রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের সাইবার আক্রমণ। এছাড়া ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য।
মধ্যম ঝুঁকি (Tier II): হাইতি, লেবানন, মেক্সিকো, দক্ষিণ চীন সাগরসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সহিংসতা।
সামান্য ঝুঁকি (Tier III): এখানে বাংলাদেশের পাশাপাশি সুদানের যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি, আফ্রিকার অন্যান্য দেশ এবং কিছু ইউরোপীয়-এশীয় সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোর সংখ্যা এ বছর সবচেয়ে বেশি (৯টি)।
প্রতিবেদনটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞদের নভেম্বর ২০২৫-এর জরিপের ভিত্তিতে তৈরি। সিএফআর-এর সেন্টার ফর প্রিভেনটিভ অ্যাকশনের পরিচালক পল স্টেয়ার্স জানিয়েছেন, বিশ্ব আরও সহিংস ও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের প্রসঙ্গে বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে এই ‘সামান্য ঝুঁকি’ দ্রুত মধ্যম বা উচ্চ স্তরে চলে যেতে পারে—বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপটে।
এই প্রতিবেদন মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য সংঘাত প্রতিরোধের অগ্রাধিকার নির্ধারণে সহায়ক। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা যে, শাসনের মান উন্নয়ন না হলে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়বে এবং সহায়তা প্রভাবিত হতে পারে।
