ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বিএনপি।
এই দুঃসংবাদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শেখ হাসিনা তার শোকবার্তায় বলেন:
“বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান অপরিসীম। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে এবং বিএনপি নেতৃত্বের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো। আমি বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
আমি তাঁর ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য শোকাহত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আশা করছি মহান আল্লাহ তার পরিবারের সদস্যদের এবং বিএনপির সবাইকে এই শোক কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবেন।”
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, হার্ট ও কিডনি সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
বাংলাদেশের আধুনিক রাজনীতির ইতিহাসে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দুই অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেত্রী। তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ‘ব্যাটল অব দ্য বেগমস’ নামে পরিচিত, যা দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে ক্ষমতার রাজনীতি পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করেছে।
১৯৮১ সালে স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার পর রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে এরশাদ সরকারের পতন ঘটান। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং ১৯৯১-৯৬ ও ২০০১-০৬ মেয়াদে দেশ শাসন করেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নারী নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক সংস্কারে তার অবদান স্মরণীয়।
আধুনিক বাংলাদেশের বিগত চার দশকে এই দুই নেত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তাদের যৌথ আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মাইলফলক।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই যুগের এক অধ্যায়ের অবসান হলো। দেশবাসী তার আত্মার শান্তি কামনা করছে।
