সাঁতার না জানা একটি শিশু পানিতে পড়ে যেতেই মুহূর্তের মধ্যে সাইরেন বেজে ওঠে। আশপাশের মানুষ ছুটে এসে পানিতে ঝাঁপিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে। বাস্তবে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে উদ্ভাবিত একটি ব্যতিক্রমী ডিভাইসের মহড়া।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় ভোলা পৌরসভার একটি পুকুরে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।
মহড়াটির আয়োজন করেন ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’-এর উদ্ভাবক মো. তাহসিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুল ইসলাম এবং ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
উদ্ভাবক তাহসিন জানান, ২০২৩ সালে তার বাড়ির পাশে পানিতে পড়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে একই পরিবারের তার আপন খালাতো দুই শিশুবোন পানিতে ডুবে মারা যায়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর সমস্যা সমাধানে ভাবতে বাধ্য করে। দীর্ঘ ৮ থেকে ৯ মাসের গবেষণা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর এই ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’ উদ্ভাবন করেন।
দুই গ্রাম ওজনের এই ডিভাইসটি লকেট আকারে শিশুর গলায় পরানো থাকবে। শিশুটি পানিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে স্থাপিত রিসিভার ডিভাইসে জোরালো সাইরেন বেজে উঠবে। একই সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইলে তাৎক্ষণিক কল যাবে এবং জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে শিশুটি কোন পুকুর বা স্থানে পড়েছে তা শনাক্ত করা যাবে।
তাহসিন জানান, ডিভাইসটি উদ্ভাবনে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে বাজারজাত করা হলে এটি দেড় থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে অভিভাবকদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
উল্লেখ্য, তাহসিন ২০২৪ সালে মনপুরা হাজিরহাট সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।
তরুণ উদ্ভাবক তাহসিনের বিশ্বাস, তার উদ্ভাবিত ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’ ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পানিতে পড়ে শিশু মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এজন্য ডিভাইসটির আরও উন্নয়ন ও ব্যাপক সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
