কবির য়াহমদ
রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনী হলফনামা ও আয়ের বিষয়গুলো দেখছিলাম। চোখ পড়ল জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের দিকে।
সিলেটে জামায়াত নেতা মানেই হলো হাউজিং আর ক্লিনিক ব্যবসার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। ডা. শফিকুরও এর ব্যতিক্রম নন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর হলেও সিলেটের মানুষ। ব্যবসাবাণিজ্যসহ অনেক কিছু আছে তাঁর সিলেটে।
ডা. শফিকুর রহমানের মাসিক আয়ে চোখ আটকে গেল। এ যে অবিশ্বাস্য তথ্য। তাঁর মাসিক আয় মাত্র ৩০ হাজার টাকা; বছরের হিসাবে এটা গিয়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৬০ হাজারে। গত অর্থবছরে তিনি কৃষিখাত থেকে ৩ লাখ টাকা ও অন্য উৎস থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করেছেন।
এত গরিব; এত গরিব!
মাসে এই মাত্র ৩০ হাজার টাকা দিয়ে চলেন কীভাবে তিনি? তাও আবার এমন বিলাসী জীবন। দেশ তো সায়েস্তা খাঁর কাল অতিবাহিত করছে না। কীভাবে সম্ভব?
ভাবলাম বেচারা গরিব; তাহলে নিশ্চয় তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপার্জনে তিনি দিন যাপন করছেন। রাজনীতি করছেন।
হায়াল্লা, এ কী! তাঁর স্ত্রী গৃহিণী। কোন উপার্জন নেই। আমিনা বেগম আবার অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছিলেন।
স্ত্রীর কাছ থেকেই সংসার চালানোর কোন আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না শফিকুর রহমান। তাহলে নিশ্চয় ছেলেমেয়ে উপার্জন করছে, এবং নিশ্চয় তারা বেশ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে পরিবারের ব্যয় নির্বাহে।
হায় হায়, এখানেও ধাক্কা! ডা. শফিকুর রহমানের ছেলে ডা. রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহ। তাঁর মাসিক আয় কত জানেন? ৫ হাজার ৫৫৫ টাকা মাত্র; বার্ষিক হিসাবে সর্বসাকুল্যে এটা ৬৬ হাজার ৬৬৭ টাকা। ২০২২ সালে জ/ঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ডা. রাফাতের সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৩০ হাজার টাকার।
বুঝা গেল স্ত্রী ও ছেলের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার সুযোগ নাই ডা. শফিকুরের। সুযোগ রয়ে গেছে এখনো। দুই মেয়ে আছেন। এবার দেখা গেল এক মেয়ের সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ, আর আরেকজনের ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ১৭৯ টাকার।
অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে না? আমি তো হতবাক। এটা কি সত্য? সত্য ভাবার কোন কারণ নাই; তাহলে নিশ্চিত মিথ্যা তথ্য এগুলো। অবশ্য এটাকে মিথ্যা তথ্য বলার সুযোগ নাই। কেউ যাচাই করবে না, কেউ আলোচনাও করবে না।
‘হালাল মিথ্যা’ হয়ত এগুলো। ‘হালাল মিথ্যা’ নিয়ে প্রশ্ন তুললে ‘নাফরমানি’ হয়ে যায়; ‘গুনাহগার’ হওয়ার ভয় থাকে!
