নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উদ্বোধনের পর ৪৩ মাসে টোল আয় ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের ২৫শে জুন সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত টোল আদায় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
সেতু কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ হাজার যানবাহন পদ্মা সেতু দিয়ে চলাচল করে। দৈনিক টোল আদায় গড়ে আড়াই কোটি টাকা। শুধু ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৮২ কোটি টাকা।
মোট টোল আদায় ৩ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করাকে সেতু কর্তৃপক্ষ ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
পদ্মা সেতুর আয় থেকে মন্ত্রণালয়ের কিস্তি পরিশোধ বন্ধ: টোলের আদায়কৃত বিপুল অর্থ যাচ্ছে কোথায়?
পদ্মা সেতু প্রকল্প বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন প্রত্যাহার করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৪ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ২০২২ সালে সেতুটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের সময় শেখ হাসিনা বলেন, সেতু নির্মাণে নেওয়া ঋণ সরকারকে ১ শতাংশ সুদসহ ধাপে ধাপে ফেরত দেবে এবং ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যেই প্রকল্প ব্যয় ওঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
যদিও উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত যানবাহনের চলাচলের হার বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেতুর খরচ উঠতে ১৫ বছর লাগতে পারে।
সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা (ইটিসি) চালু আছে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) কার্ড ব্যবহার করে দাঁড় না করেই টোল পরিশোধ করা যায়। এতে টোল প্লাজায় অপেক্ষার সময় কমেছে এবং সেতু পারাপার আরও দ্রুত হয়েছে।
৩০ হাজার ৭৭০ কোটি টাকায় নির্মিত পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় সেতু কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়। এই ঋণ ৩৫ বছরে ১৪০ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আর টোল আয়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। টোল আদায়, ভ্যাট এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
টোল আদায়ে সহায়তার জন্য ৫ বছরের জন্য কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়েকে ৬৯৩ কোটি টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর সেতুর বড় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে অতিরিক্ত ব্যয়ও যুক্ত হবে বলে সেতু বিভাগ জানিয়েছে।
সেতু নির্মাণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবর্তন
মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তকে সংযুক্ত করে নির্মিত পদ্মা সেতু দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতে বড় পরিবর্তন এনেছে। সড়কপথে রাজধানীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ফলে পরিবহন সময় কমেছে এবং পণ্য পরিবহন খাতে গতি এসেছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, কৃষি, মৎস্য এবং শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে এই সেতুর কারণে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
টোল আদায়ের মাইলফলক অর্জনে যানবাহনের চালক, মালিক, শ্রমিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সেতু পরিচালনা–রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেতু কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে।
