ড. লুবনা ফেরদৌসী
শেষ মুহূর্তে ইউনুস সরকার বাংলাদেশের একটি বিশাল ক্ষতি করে যাচ্ছেন। স্বদেশ অথবা মৃত্যু বলে বলে যারা একটি তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেছে তারা এখন জামাত, তারা এখন নিশ্চুপ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এরা পানির দরে বিক্রি করে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সদ্য-স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ড. লুবনা ফেরদৌসীর এই লেখাটি পড়েন।
‘যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সদ্য বাণিজ্য চুক্তিকে কেউ কেউ দেখছি কূটনৈতিক সাফল্য বলে ঢোল পেটাচ্ছেন, “win-win”, “regional parity”, “garments-friendly deal” ইত্যাদি ট্যাগ লাগিয়ে বাতাস দিচ্ছেন।
কিন্তু এই নির্বাচনী মওসুমি উল্লাসে এই অধমের একটা ছোট্ট অনুরোধ, ওহে, বাঙালি জাগো, বিশেষ করে ফেসবুক থেকে পিএইচডি নেওয়া বাঙালিরা বোরিং লাগলেও পুরো চুক্তিটা অন্তত একবার পড়ে দেখুন। গুগল ট্রান্সলেট, AI, যেটা সুবিধা হয় ব্যবহার করুন। কারণ বোঝার চেষ্টা না করলে বুঝবেন না, গত ১৭ মাসে মহামতি ইউনুস সরকার শুধু বর্তমান না, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নীতিগত সক্ষমতার ওপর কী পরিমাণ ক্ষতি চাপিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের USTR প্রকাশিত চুক্তির (লিঙ্ক কমেন্ট বক্সে) পুরোটা পড়লে খুব দ্রুতই আপনি বুঝতে পারবেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে নিজের নীতিনির্ধারণের চাবিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে, শব্দ না করে, হৈচৈ না তুলে।
প্রথমেই যে বাস্তবতাটা স্বীকার করা দরকার, তা হলো, বাণিজ্যে reciprocity তখনই ন্যায্য হয়, যখন দুই দেশের অর্থনৈতিক শক্তি, বাজারের আকার, শিল্প সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত অবস্থান তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বড়। একদিকে তারা উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য, জ্বালানি ও পরিষেবা রপ্তানি করে, অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনও প্রধানত পোশাক ও কিছু সীমিত কৃষিপণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই দুই অর্থনীতির মধ্যে reciprocal tariff মানে একটাই জিনিস, অসম প্রতিযোগিতাকে আইনি বৈধতা দেওয়া
চুক্তির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিকটি হলো, এটা শুধু শুল্ক কমানোতেই থেমে নেই; বরং বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণের জায়গাগুলোতেই তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমদানিতে লাইসেন্সিং, মান নিয়ন্ত্রণ, conformity assessment, এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কার্যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য কোনো “বাধা” তৈরি করবে না। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যদি নিজের শিল্প বা কৃষিকে রক্ষা করতে কোনো মান বা পরীক্ষার শর্ত আরোপ করতে চায়, সেটাও disguised trade restriction বলে চ্যালেঞ্জ করা যাবে।
হ্যাঁ, কাগজে কলমে বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২০% থেকে ১৯% এ নেমেছে। কিন্তু এই ১% নামার গল্পটা তখনই অর্থহীন হয়ে যায়, যখন আপনি দেখেন একই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ একতরফাভাবে প্রায় ৪,৪০০টি মার্কিন পণ্যে শুল্ক তুলে নিচ্ছে বা ব্যাপকভাবে কমাচ্ছে। অর্থাৎ আমরা আমাদের বাজার খুলছি wide open, আর বিনিময়ে পাচ্ছি এমন এক marginal tariff relief, যা আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় খুব বেশি কিছু বদলায় না। ভারত ১৮%, ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কা ২০%, এই তুলনায় বাংলাদেশ close থাকলেও, বাস্তবে আমরা নিজেদের policy space অনেক বেশি হারিয়েছি।
সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গাটা হচ্ছে কৃষি, ডেয়ারি, বিফ আর পোলট্রি খাত। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিজের খাদ্য ও প্রোটিন নিরাপত্তার core sectors–এ মার্কিন কর্পোরেট কৃষিকে আনুষ্ঠানিক প্রবেশাধিকার দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য ভর্তুকিপ্রাপ্ত, অত্যন্ত যান্ত্রিক, এবং বিশাল স্কেলের ওপর দাঁড়ানো। এই পণ্যগুলো যখন বাংলাদেশের বাজারে ঢুকবে, তখন স্থানীয় খামারি, ক্ষুদ্র দুগ্ধ উৎপাদক আর পোলট্রি খাত, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা সরাসরি যুক্ত, তারা price competition, এ টিকে থাকতে পারবে না। এটা বাজার উন্মুক্তকরণ না, এটা ধীরে ধীরে দেশীয় উৎপাদনকে সরিয়ে দেওয়ার রেসিপি।
আরও গুরুতর বিষয় হলো, এখানে বাংলাদেশ কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের জন্য বাজার খুলে দিতে হবে এবং স্বাস্থ্য, পরিবেশ বা ঝুঁকির অজুহাতে আমদানিতে বাধা দেওয়া যাবে না, যদি সেটা ‘scientifically justified’ না হয়, মানে যুক্তরাষ্ট্রের চোখে গ্রহণযোগ্য না হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য বা কৃষক সুরক্ষার উদ্বেগ তখনই বৈধ হবে, যখন তা যুক্তরাষ্ট্রের চোখে গ্রহণযোগ্য হবে।
অথচ বাংলাদেশের কৃষিকে কেবল GDP র একটা সংখ্যা দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। কৃষি মানে জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ স্থিতিশীলতা, সামাজিক ভারসাম্য। পৃথিবীর কোনো দেশ যারা সত্যিকারের উন্নয়ন করেছে, তারা কেউই কৃষিকে এভাবে উন্মুক্ত করে দেয়নি। ভারত করেনি, চীন করেনি, ভিয়েতনামও করেনি। বাংলাদেশ করেছে, কারণ কাগজে চাপ ছিল, আর রাজনৈতিক এবং নীতিগত সাহস ছিল না।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে SPS, standards এবং conformity assessment সংক্রান্ত শর্ত। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ল্যাবের সার্টিফিকেশন থাকলেই মার্কিন পণ্য বাংলাদেশে ঢুকতে পারবে, অতিরিক্ত পরীক্ষা ছাড়াই। শুনতে আধুনিক trade facilitation মনে হলেও, এর বাস্তব অর্থ হলো, বাংলাদেশ নিজের regulatory sovereignty র বড় একটি অংশ কার্যত outsource করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ বা কৃষকের স্বার্থে কোনো কঠোর মানদণ্ড আরোপ করতে চায়, খুব সহজেই সেটাকে “disguised trade barrier” বলে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। তখন প্রশ্নটা হবে না, এই নীতি দেশের জন্য ভালো কি না, প্রশ্নটা হবে, ওয়াশিংটন সেটা মানছে কি না।
ডিজিটাল ট্রেড এর ক্ষেত্রে আরও alarming। বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স বসাবে না, cross-border data flow সীমাবদ্ধ করবে না, এবং এমন কোনো ডিজিটাল চুক্তি করবে না যা US interests jeopardise করে।
মানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির ওপর কোনো বৈষম্যমূলক ডিজিটাল কর বসাবে না, ডেটা অবাধে যাবে-আসবে, আর সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা, ভবিষ্যতে যদি বাংলাদেশ এমন কোনো ডিজিটাল চুক্তি করে যা যুক্তরাষ্ট্রের essential interest ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এই চুক্তি বাতিল করে আবার শুল্ক বসাতে পারবে। মানে, আপনার ভবিষ্যৎ নীতি আজই অন্য কেউ ভেটো করে বসে আছে।
এর মানে কী? এর মানে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যদি চীন, রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আলাদা প্রযুক্তি বা ডেটা কাঠামোতে যেতে চায়, যুক্তরাষ্ট্র unilateralভাবে এই চুক্তি বাতিল করে শুল্ক পুনর্বহাল করতে পারবে। অর্থাৎ digital sovereignty এখন conditional, reversible, এবং ওয়াশিংটনের veto-র অধীন।
আরও একটা জায়গায় গিয়ে মনে হয়, এটা দরকষাকষি না, এটা আগেভাগেই আত্মসমর্পণ। বাংলাদেশ কার্যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো border tax বা কর সুবিধা দেয়, বাংলাদেশ সেটা WTO তে চ্যালেঞ্জ করবে না। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে আইনি অস্ত্রটা ছোট দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে, সেটাই আগেভাগে নামিয়ে রাখা হয়েছে টেবিলে।
গার্মেন্টস নিয়ে যে optimistic কথা বলা হচ্ছে , US cotton ব্যবহার করলে zero-duty, extra textile advantage, সেখানেও একটা trap আছে। সুবিধাটা tied to input sourcing। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি competitiveness ভবিষ্যতে নির্ভর করবে আপনি মার্কিন তুলা বা man-made fibre ব্যবহার করছেন কি না তার ওপর। এর ফলে দেশীয় spinning mill, আঞ্চলিক কাঁচামাল sourcing, এমনকি ভবিষ্যৎ industrial diversification, সবকিছুই constrained হয়ে যাবে। short-term order বাড়তে পারে, কিন্তু long-term industrial autonomy ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য তিনটা দীর্ঘমেয়াদি ফাঁদ তৈরি করেছে। প্রথমত, আমদানি নির্ভরতা আরও গভীর হবে। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো নীতি বদলাতে গেলে এই চুক্তির শর্তে আটকে যাবে, এটাকে বলে policy lock-in। তৃতীয়ত, চীন, রাশিয়া বা অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলোই বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
সবচেয়ে telling ব্যাপারটা হলো, দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এমন চুক্তি করেনি। ভারত বহু চাপেও কৃষি ও ডেয়ারি ছাড়েনি, কারণ তারা জানে ওই খাত ছাড়লে অর্থনীতি না, সমাজ ভাঙে। বাংলাদেশ সেই পাঠটা শিখল না, বা শিখেও উপেক্ষা করল।
এই চুক্তি আসলে বাণিজ্যের চেয়ে বেশি কিছু। এটা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্পনীতি, কৃষিনীতি আর কূটনৈতিক স্বাধীনতার ওপর এক ধরনের বন্ধক। বাজার হয়তো খুলবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা সংকুচিত হবে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হয়েছে রাষ্ট্রীয় দরকষাকষির সক্ষমতায়। বাণিজ্য চুক্তি কখনোই শুধু শুল্কের হিসাব না, এটা হলো leverage তৈরি করার জায়গা। আপনি কিছু ছাড় দেবেন, বিনিময়ে কিছু নেবেন। কিন্তু এখানে বাংলাদেশ আগেভাগেই প্রায় সব দরজা খুলে দিয়েছে, কৃষি, ডিজিটাল ডেটা, পরিষেবা, মান নিয়ন্ত্রণ, করনীতি, সবখানে। এর মানে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ইস্যুতে দরকষাকষি করতে গেলে বাংলাদেশের হাতে দেওয়ার মতো কিছু থাকবে না। এটাকে বলে front-loaded concessions, সব ছাড় শুরুতেই, কিছুই পরে না।
অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এমন এক পথে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে policy flexibility থাকে না। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সবচেয়ে বড় সম্পদ টাকা না, বাজারও না, ওদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো নীতি বদলানোর ক্ষমতা। আজকে কৃষি বাঁচাতে ভর্তুকি, কাল শিল্প বাঁচাতে শুল্ক, পরশু শ্রম রক্ষায় নিয়ন্ত্রণ, এই flexibility দিয়েই দেশগুলো বড় হয়। এই চুক্তি সেই flexibility টাকেই “non-discriminatory”, “not unduly burdensome”, “reciprocity” এর নামে বেঁধে ফেলেছে।
আরেকটা বড় বিপদ হলো structural dependency deepening। যুক্তরাষ্ট্রের ভর্তুকিপ্রাপ্ত কৃষিপণ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তি ঢুকবে, দেশীয় উৎপাদক টিকবে না। শুরুতে দাম কম মনে হবে, ভোক্তা খুশি হবে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে যখন দেশীয় উৎপাদন দুর্বল হয়ে পড়বে, তখন আমদানি ছাড়া বিকল্প থাকবে না। তখন দাম কে ঠিক করবে? বাংলাদেশ না, বাজার আর সরবরাহকারী দেশ। ইতিহাসে লাতিন আমেরিকা থেকে আফ্রিকা, এই গল্প বহুবার দেখা গেছে।
ডিজিটাল এবং ডেটা অধ্যায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক। ডেটা আজকের দিনে শুধু তথ্য না, অর্থনৈতিক শক্তি। বাংলাদেশ এখানে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে যে সে নিজস্ব ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব গড়বে না। ভবিষ্যতে যদি কোনো সরকার বলে, “আমরা ডেটা লোকালাইজেশন চাই, আমাদের স্টার্টআপ রক্ষা করতে চাই”, তখন এই চুক্তিই সবচেয়ে বড় বাধা হবে। অর্থাৎ আজকের অন্তর্বর্তী সরকার আগামী দশকের ডিজিটাল রাষ্ট্রকেও আগেই সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নটা আসে, legitimacy। এই চুক্তি সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ছাড়াই, জনপরামর্শ ছাড়াই, ব্যবসায়ী, কৃষক, শ্রমিক, কারও সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার বাইরে করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিকভাবেও দুর্বল করে দিয়ে গেছে।
সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ক্ষতিটা হলো, এই চুক্তি বাংলাদেশের non-alignment credibility কে আঘাত করেছে। বাংলাদেশ বহুদিন ধরে বলে এসেছে, সে কোনো ব্লকের নয়, সবার সঙ্গে কাজ করবে। কিন্তু এই চুক্তি বলে। তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রযুক্তি চুক্তিতেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। এটা de facto alignment, নাম না দিয়ে।
হতাশ লাগে যে, আমরা এখন এমন এক অবস্থানে, যেখানে কৃষি, খাদ্য, ডিজিটাল স্পেস, শিল্পনীতি, সবকিছুই conditional access এর ভেতরে ঢুকে গেছে। আজকে এটাকে “meaningful step forward” বলা হচ্ছে, কাল এটাকেই বলা হবে “locked-in commitment”।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একটা কথা আছে, bad governments fail fast, bad agreements fail slow। এই চুক্তির ফল আজকে না, ধীরে ধীরে আসবে। প্রথমে আমদানি বাড়বে, পরে উৎপাদন কমবে, তারপর কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে, শেষে রাষ্ট্রের নীতি ক্ষমতা ক্ষয় হবে।
এই চুক্তি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্পনীতি, কৃষিনীতি ও কূটনৈতিক স্বাধীনতার ওপর এক ধরনের বন্ধক চুক্তি, ক্ষমতা হারানোর দামে, বাজার পেলাম আমরা।’
লেখক: শিক্ষক ও গবেষক | ইউনিভার্সিটি অব হাল | ইংল্যান্ড
