ফরিদ ইমন
সম্প্রতি সজীব ওয়াজেদ জয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ITV এবং জার্মানির Deutsche Welle-কে দেওয়া সাক্ষাৎকার নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী শিবির—বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—তাঁকে ঘিরে সমালোচনামূলক প্রচার চালিয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তাঁর অবস্থান, বক্তব্যের স্বচ্ছতা এবং আত্মবিশ্বাস নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে।
সাক্ষাৎকারে নির্বাচন, জুলাই আন্দোলন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র ভারতে অবস্থান ও সম্ভাব্য দেশে ফেরা, নতুন সরকারের সঙ্গে সংলাপ এবং তাঁর নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ—এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি সংযত অথচ দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে ছিল আত্মবিশ্বাস; উচ্চারণে ছিল স্পষ্টতা। সমর্থকদের দৃষ্টিতে, তা যেন এক ধরনের দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতিধ্বনি।
ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি জানান—ক্ষমতা তাঁর ব্যক্তিগত লক্ষ্য নয়। জীবনে এমন মানুষও থাকেন, যারা প্রাপ্ত অবস্থাতেই সন্তুষ্ট; ক্ষমতা বা অর্থকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখেন না। এই বক্তব্য রাজনীতির প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক মানসিকতার বিপরীতে এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখযোগ্য যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষালাভ করেছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রাপ্ত নেতৃত্ব বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়, তবে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে—সে প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।
দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলে হার্ভার্ড-শিক্ষিত নেতৃত্ব আছে কি না, তা নিয়ে জনপরিসরে স্পষ্ট তথ্য কমই আলোচিত হয়; তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, গণসংযোগ ও নীতিনিষ্ঠাই শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব নির্ধারণ করে—এ কথাও সমানভাবে সত্য।
তাঁর সমর্থকরা আশা করছেন, তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাবে এবং স্বাধীনতার চেতনা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
তবে রাজনীতির বাস্তবতা সবসময়ই বহুস্তরীয়—সংলাপ, সহনশীলতা ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়াই গণতান্ত্রিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।
বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এক সংবেদনশীল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক আবেগের বাইরে গিয়ে নীতিনিষ্ঠ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিই হতে পারে আগামীর পথরেখা। নেতৃত্বের প্রশ্নে শেষ কথা বলবে জনগণই—গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি সেখানেই।জয় বাংলা
লেখক: সদস্য ধর্মবিষয়ক উপ-কমিটি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। সাবেক সদস্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনিবার্হী কমিটি।
১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ লন্ডন।
