অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাজনীন মুন্নী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি কারাগারে আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই পোস্টে নাজনীন মুন্নী লেখেন, একসময় তিনি সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানকে ‘বিরাট লড়াকু’ মানুষ হিসেবে পছন্দ করতেন। রিজওয়ানা হাসানের স্বামী যখন অপহৃত হয়েছিলেন, তখন তাঁকে ফিরে পাওয়ার পেছনে সাংবাদিকদের বড় ভূমিকা ছিল। অথচ ক্ষমতায় আসার পর রিজওয়ানা হাসানের আচরণ বিগত সরকারের মন্ত্রীদের চেয়েও ‘দাম্ভিকতাপূর্ণ’ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন এই সাংবাদিক।
স্ট্যাটাসে নাজনীন মুন্নী প্রশ্ন তোলেন, ‘৩-৪টা মন্ত্রণালয় সামলানোর পর চোখে অন্ধকার দেখেন। সাংবাদিকদের নাকি জেলে যেতে হয়নি… এত নির্লজ্জ মিথ্যাচার কেমন করে করতে পারে প্রকাশ্যে কেউ কে জানে?’ তিনি অভিযোগ করেন, বিগত দিনগুলোতে সাংবাদিকেরা প্রতিটি মুহূর্ত জেলে যাওয়ার আতঙ্কে কাটিয়েছেন।
উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানকে উদ্দেশ্য করে নাজনীন মুন্নী আরও লেখেন, ‘নির্বাচনের তিন দিন আগে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন চুক্তি করতে পারেন, তবে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার এক দিন আগে সাংবাদিকদের মুক্তিও দিতে পারবেন।’ এ সময় তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরসহ আটক সব সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেন।
নাজনীন মুন্নী তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেবল দলীয় সমর্থনের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না এবং বিশ্বের কোথাও এমন আইন নেই। বর্তমান প্রশাসন যে উদাহরণ সৃষ্টি করে যাচ্ছে, তা তাদের আজীবন ঘৃণা করার জন্য যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সেই আতঙ্ক কত ভয়ংকর, নিশ্চয়ই একদিন তিনি (রিজওয়ানা হাসান) বুঝবেন।’
মুহূর্তের মধ্যেই সাংবাদিক নাজনীন মুন্নীর এই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গণমাধ্যম ও সচেতন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।(আজকের কণ্ঠ)
