মনজুরুল হক
লিমিটেড পলিটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে গত আঠরো-উনিশ বছর বিএনপি কেবল দুটো ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করেছে- বেগম খালেদার মুক্তি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।
🔘
সেই বিএনপি গত কুড়ি বছরের মধ্যে সবচেয়ে সফল বুদ্ধিদীপ্ত চালটি চেলেছে ইউনূস রেজিমের শেষ দিকে ইউনূসের সঙ্গে লন্ডন বৈঠকে। ‘ওয়ান টু ওয়ান’ সেই বৈঠকের খবর বাইরে আসেনি। এখন বোঝা যাচ্ছে ওই বৈঠকের ফলশ্রুতিতেই আজ বিএনপি ক্ষমতায়। তারেক রহমানের সকল মামলা প্রত্যাহার। বেগম খালেদা থেকে তারেক রহমানের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়া।
🔘
বিনিময়ে ইউনূসগংঙের সীমাহীন মানবতাবিরোধী অপরাধ, বৈষম্যবিরোধী নামক মবের ভায়েলেন্স, খু/ন-জখম-লুটপাট-চুরি-ডাকাতি-সীমাহীন দুর্নীতি-টাকা পাচার-চরম রাষ্ট্র ক্ষমতার অপব্যবহার-প্রশাসনের আগাপাশতলায় দেশবিরোধী, স্বাধীতাবিরোধীদের বসানো-সংখ্যালঘু হ/ত্যা, মন্দির, মাজার, কবর, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ধ্বংস করা-জ্বা/লিয়ে দেওয়া-হাজার হাজার মানুষকে বিনা অপরাধে জেলবন্দী করা-আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগকে কুক্ষিগত করে দেশের ইতিহাসে নিকৃষ্টতম ফ্যাসিবাদ কায়েম করার পরও সেই ‘স্ট্রাকচারাল ফ্যাসিবাদ’-এর শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সকলকে ইনডেমনিটি দেওয়া-ক্রিমিনালদের নিরাপদে স্ব স্ব কর্মস্থলে ফিরতে দেওয়া-তাদের এক গ্রুপকে আরও কিছুদিন ক্ষমতায় রেখে দেওয়ার এই টোটাল স্ট্র্যাটিজিক্যাল স্টেপটাই বিএনপির সারা জীবনের সবচেয়ে বড় অ্যাচিভমেন্ট।
🔘
এই কাজে তারা ‘টোপ’ দিয়ে আওয়ামী লীগের বড় একটা অংশের ভোট আদায় করেছে, লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মূলো ঝুলিয়েছে, জামায়াত-এনসিপিকে ‘কন্ট্রোলে’ রাখতে পেরেছে, বাহিনীসমূহের সামনে নিজেদের ‘দেশরক্ষাকারী সৈনিক’রূপে হাজির করতে পেরেছে, এবং আন্তর্জাতিক প্রধান শক্তিগুলোকে নিজেদের পক্ষে টানতে পেরেছে।
🔘
ইউনূস রেজিমের প্রথম দিকে আমরা অনেকেই বলেছি-জামায়াতের লম্বা থাবা এবং ইউনূসের অবৈধ শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী হওয়া থেকে বাঁচতে বিএনপির উচিৎ হবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্য করা। সেসময় ‘তারেক-জয় কথা বলেছেন’ এমন সংবাদও প্রচার হলেও কিন্তু বিএনপি তখন কাজটি করেনি। তারা অপেক্ষায় ছিল-কবে ইউনূস স্বয়ং ‘ছ্যারাব্যারা’ দশা থেকে বেরিয়ে আসতে তারেকের স্মরণাপন্ন হবেন।
🔘
শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার ‘মেওয়া’ ফলেছে। ইউনূস তার সকল অপরাধ প্যাকেটবন্দী করে বিএনপির হাতে তুলে দিয়ে একটা ‘আমরা-আমরা-ভাই-ভাই নির্বাচন’ করিয়ে মেটিক্যুলাসলি ডিজাইনের ফিনিশ প্রডাক্ট-রাষ্ট্রক্ষমতা বিএনপিকে উপহার দিয়ে নিরাপদে সেইফ এক্সিট নিয়েছে।
🔘
সকল পক্ষকে ‘খুশি’ করার প্রতিদানস্বরূপ এখন বিএনপি ইউনূসের ‘অসমাপ্ত স্বৈরাচার’ চালিয়েও গণতান্ত্রিক! ওপরে ওপরে জামায়াত-এনসিপির সঙ্গে মতবিরোধ দেখালেও তলে তলে ‘We’re in the Same Boat, Brother’!
🔘
মোটা দাগে জামায়াত-এনসিপি’র সঙ্গে বিএনপির সামান্য পার্থক্য হলো-জামায়াত-এনসিপির লক্ষ্য; ‘পূর্ব পাকিস্তানি’ ভাবধারা ফিরিয়ে আনা, বিএনপি’র লক্ষ্য বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক মোড়কে পূর্ব পাকিস্তানি সংস্কৃতির চর্চা করা। এ জন্য উভয় গোষ্ঠীর আমেরিকার কাছে ‘দেশ বিক্রি’ করা, ভারতের অনুগত হওয়া, পাকিস্তান-চীনের সঙ্গে ঘন খাতির রাখতে বাধেনি।
🔘
এই কাজটাই আওয়মী লীগ করলে সেটা দেশ বিক্রি।
এরা করায় সেটা দেশের প্রয়োজনে গ্লোবাল স্ট্র্যাটিজি।
🔘
২০২৬ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর, বিএনপি জানিয়েছে যে তারা ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করবে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা, বিশেষ করে সালাহউদ্দিন আহমদ, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের (extradition) প্রক্রিয়া জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিএনপি ভারতকে অনুরোধ করেছে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে, যাতে তিনি বাংলাদেশে হওয়া বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হতে পারেন।
এই ইস্যুটি ভারতের সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তোলা হবে।
বিএনপি আরো্ বলেছে, আইনি কাঠামোর মধ্যেই শেখ হাসিনাকে বিচারের আওতায় আনা হবে।
🔘
এর পরেও আওয়ামী লীগের এখনও যারা মনে করছেন; ভারতের চাপে/অনুরোধে বিএনপি লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, শেখ হাসিনার মামলা প্রত্যাহার করবে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দেবে, তারা আরও লার্জ স্কেলে প্রতারিত হওয়ার জন্য তৈরি থাকতে পারেন।
লেখক: সাংবাদিক,বাংলাদেশ।
