‘ফুল বিক্রিতা মেয়েটি সে নিজেও জানেনা সেও একটি ফুল। সিলেট জিন্দাবাজার পয়েন্টে এই ছোট্ট মেয়েটিকে দেখলে বুকটা হু হু করে ওঠে। ওর হাতে ধরা গোলাপগুলো হয়তো কারো ড্রয়িংরুম বা প্রিয় মানুষের ঘর সাজাবে, কিন্তু এই অবুঝ শিশুটি নিজেও জানে না যে— সে নিজেই একটা জীবন্ত ফুল!
তীব্র রোদে পুড়ে কিংবা মাঝরাতের হিমেল হাওয়ায় যখন ওর সমবয়সী শিশুরা মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর কথা, তখন ও জিন্দাবাজারের মোড়ে মোড়ে ফুল বিক্রি করে বেড়ায়। ওর হাসিমাখা মুখটার আড়ালে যে কতো না বলা অভাব আর জীবন যুদ্ধের গল্প লুকিয়ে আছে, তা হয়তো আমরা পাশ কাটিয়ে যাওয়া মানুষগুলো কোনোদিনও বুঝবো না।

পুষ্পের পবিত্রতা ওর চেহারায় লেগে থাকলেও, নিয়তি ওকে ঠেলে দিয়েছে কঠিন বাস্তবতায়। আমরা কি পারি না এই মেঠো পথের ফুলগুলোকে একটু আগলে রাখতে? অন্তত অবজ্ঞার দৃষ্টিতে না তাকিয়ে একটু ভালোবাসার হাসি উপহার দিতে?
সিলেটের জিন্দাবাজারে গেলে যদি এই ছোট্ট পরিটার দেখা পান, তবে সাধ্যমতো ওর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন। ওর কাছ থেকে একটি ফুল কেনা মানেই হয়তো ওর এক বেলার খাবারের নিশ্চয়তা। পোস্টটি ‘শেয়ার’ করুন যেন এই অবুঝ ফুলটির মায়াবী মুখটা সবার হৃদয়ে পৌঁছে যায়।

এরকম ফেইসবুক স্টাটাসে পর যা ঘটে-‘ফুল বিক্রেতা সেই ছোট্ট কিউট শিশুটির কান্না দেখে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন, কেউবা অবাক হয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ সেই কান্নার পেছনে লুকিয়ে ছিল এক হৃদয়ছোঁয়া গল্প।
যখন এই মেয়েটির দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসেন ফাহিম আল চৌধুরী, তখন তাঁর পক্ষ থেকে লোক পাঠানো হয় শিশুটির কাছে। তাকে বলা হয়— “তোমাকে আমরা নিয়ে যাবো, তোমার থাকার জন্য ভালো ঘরের ব্যবস্থা করা হবে, পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হবে। আর তোমাকে আর ফুল বিক্রি করতে হবে না।”
এই কথাগুলো শোনার পরই হঠাৎ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে ছোট্ট মেয়েটি। সে তার নানীকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে—“আমি নানীকে ছাড়া কোথাও যাবো না… আমি নানীর কাছেই থাকবো।”
এই দৃশ্যটি যেন সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ভালো জীবনের সুযোগ পেলেও, নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে ছেড়ে যাওয়ার কষ্ট সে সহ্য করতে পারেনি।
পরে ফোনে বিষয়টি জানানো হলে ফাহিম আল চৌধুরী মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বলেন—
“অবশ্যই, তার নানীকেও সঙ্গে নিয়ে আসা হবে। তাদের জন্য একটি ভালো ঘর এবং সুন্দর জীবনের সব ব্যবস্থা করা হবে।”
ভালোবাসা, সম্পর্ক আর মায়ার এই গল্পটি সত্যিই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
জীবনে সবকিছুর চেয়ে আপন মানুষটাই সবচেয়ে বড়।
এখন এই ফুল বিক্রেতা ফাইজা মেয়েটি ফাহিম আল চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে, নতুন জীবনে পা দিল।
