বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিবেদিত সিদ্ধান্তের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক নাগরিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জোট।
ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক একাধিক সংগঠন নিয়ে গঠিত এই জোট এক বিবৃতিতে বলেছে, এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, রাজনৈতিক বহুমত ও মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতার জন্য একটি “গুরুতর পশ্চাদপদতা” নির্দেশ করে।
জোটটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের অধিকার এবং রাজনৈতিক সংগঠনের স্বাধীনতার মতো মৌলিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছে যে, যেকোনো ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি, তবে তা অবশ্যই ব্যক্তিভিত্তিক, স্বচ্ছ এবং স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দল পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা “গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতাকে সংকুচিত করতে পারে” এবং ভবিষ্যতে এর নেতিবাচক নজির তৈরি হতে পারে।
জোটটি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আরোপিত বিধিনিষেধগুলো দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা উচিত এবং রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যেকোনো তদন্ত অবশ্যই আদালতের মাধ্যমে এবং ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে— গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন (কানাডা), সাউথ এশিয়ান রাইটস ইনিসিয়েটিভ (ফ্রান্স), হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন (বেলজিয়াম), ড্যানিস সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ ডেভেলোপমেন্ট এন্ড হিউম্যান রাইটস (ডেনমার্ক), গ্লোবাল ডায়োসোপরা কম্যুনিটি (ফিনল্যান্ড), গ্লোবাল বাংলাদেশ ইউনিটি নেটওয়ার্ক (অস্ট্রেলিয়া) এবং ইনটারন্যাশনাল ফোরাম ফর সেকুলার বাংলাদেশ (সুইজারল্যান্ড)।
জোটটি জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের পক্ষে কাজ করবে।
