বর্তমানে দেশজুড়ে ‘গুপ্ত’ বা পর্দার আড়ালে থাকা শক্তি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আমরা কি আসলেও সেই ‘আসল’ গুপ্ত খেলোয়াড়দের চিনতে পেরেছি? যারা রাজনীতির ময়দানে প্রকাশ্যে থাকে না, কিন্তু পর্দার আড়ালে বসে সুনিপুণভাবে পুরো জাতির ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। এই গুপ্ত মাস্টারমাইন্ডরা প্রকাশ্য শক্তির চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর এবং সুসংগঠিত। সুশীলতার মোড়কে ধ্বংসাত্মক মিশন আমাদের সমাজের একদল তথাকথিত ‘সুশীল’বছরের পর বছর ধরে একটি প্রজন্মের চিন্তা-চেতনাকে প্রভাবিত করে আসছে। তারা সুশীলতার ম্লান আলোয় নিজেদের ঢেকে রেখে তরুণদের মগজ ধোলাই করেছে এবং দেশপ্রেমের ভুল সংজ্ঞা শিখিয়েছে। এদের প্রধান অস্ত্র হলো ‘ন্যারেটিভ’ বা বয়ান তৈরি করা, যার মাধ্যমে তারা একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে। আজ জাতি যে গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে, তার বীজ বপন করা হয়েছিল অনেক আগে, অত্যন্ত গোপনে।
আড়ালের সেই প্রভাবশালী মুখগুলো আলোচনায় যখন ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus),ড. আসিফ নজরুল (Asif Nazrul) কিংবা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা (Rezwana Chowdhury Bannya)-র মতো নামগুলো উঠে আসে, তখন সচেতন মহলে একটি বড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দেয়। এরা কি কেবল নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিত্ব, নাকি কোনো সুদূরপ্রসারী ‘ডিপ স্টেট’ বা গুপ্ত এজেন্ডার অংশ? সাধারণ মানুষের কাছে যারা দীর্ঘকাল ধরে ‘আইকন’ বা আদর্শ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আজ তাঁদের কর্মকাণ্ড এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতির যোগসূত্র মেলালে এক বীভৎস ছবি বেরিয়ে আসে। মানুষ আজ জানতে চায়—এই আড়ালের প্রভাবশালীরাই কি সেই ‘গুপ্ত’ খেলোয়াড়, যারা নীরবে দেশের সবচাইতে বড় ক্ষতিটা করে ফেলেছে? মিথ্যার মুখোশ উন্মোচনের মাহেন্দ্রক্ষণ বছরের পর বছর ধরে যারা সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাকে পুঁজি করে ‘সুশীল’ সেজে আছে, তাদের আসল চেহারা জনসমক্ষে আনার সময় এসেছে। একটি জাতিকে মেধাহীন এবং লক্ষ্যহীন করতে এরা যে নীল নকশা সাজিয়েছিল, তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। আজ সময় এসেছে এই কলঙ্ক থেকে জাতিকে মুক্ত করার। মিথ্যার দেয়াল ভেঙে সত্যকে সামনে আনা না গেলে এই গুপ্ত সুশীলরা বারবার দেশ ও জনগণের সাথে বেইমানি করার সুযোগ পাবে।
উপসংহার দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই ‘গুপ্ত’ কারিগরদের চিহ্নিত করা জরুরি। যারা সুশীলতার আড়ালে থেকে রাষ্ট্র ধ্বংসের নেশায় মেতেছিল, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশ হোক কলঙ্কমুক্ত, আর প্রতিটি নাগরিক জানুক—কারা ছিল সেই আসল মাস্টারমাইন্ড যারা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সত্যের জয় হোক, আর সুশীল মুখোশধারী গুপ্তদের প্রকৃত পরিচয় সবার সামনে উন্মোচিত হোক। আপনার মতামত: পর্দার আড়ালে থাকা এই তথাকথিত সুশীলদের ভূমিকা সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী? আসলেও কি তারা একটি প্রজন্মের চিন্তা-চেতনাকে বিপথে চালিত করেছে? কমেন্টে আপনার যুক্তি জানান।
