দ্রোহ আর প্রেমের কবি, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী। বিদ্রোহী কবির প্রতি শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
প্রিয় দেশবাসী,
কবি নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাংলার অন্যতম ভিত্তিমূল। তিনি তাঁর রচনার মাধ্যমে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিলেন। সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি বারবার মানুষের মুক্তির জন্য পথে নেমেছেন; বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে গান করেন, যেন এক পাগল পথিক ছুটছেন বন্দিনী মা’র শৃঙ্খল ভাঙতে। তাঁর বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা হয়ে উঠেছিল আমাদের মুক্তির বাণী। বিপ্লবী-বিদ্রোহী সাহিত্য রচনার জন্য কারাগারে নিক্ষিপ্ত কবি আদালতে জবানবন্দীতে বলেছিলেন, ‘আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। …আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত।’ কবি নজরুলের রচনা কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে, তাই তিনি কারাগারে বসে রচনা করেন কারাগারের রোজনামচা।
প্রিয় দেশবাসী,
বৈশ্বিক আগ্রাসন রুখে দাঁড়ানো নজরুল সাম্যের কবি ছিলেন। তিনি নারী পুরুষের সমতার কথা বলেছেন যা আমাকেও সার্বক্ষণিক প্রেরণা দেয়। ধর্মকে কবি দেখেছেন মানবতার বাণী হিসেবে। স্বাধীনতার পরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসুস্থ কবিকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তিনিই কবি’র সুচিকিৎসা, সুন্দর আবাসন সহ সকল সুবিধা প্রদান করে জাতীয় কবির মর্যাদায় আসীন করেন।
প্রিয় বাংলাদেশ,
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সকল সময় শিল্প সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। শিল্পীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আমরা বিবেচনা করিনি। যেকোনো সংকটে আমরা শিল্পীদের পাশে আছি। সংকটে বিভ্রান্ত আমরা হতেই পারি কিন্তু সত্য স্পষ্ট হয়ে এলে তাকে আপনারা আলোয় উদ্ভাসিত করুন।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
