সুষুপ্ত পাঠক
তুরিন আফরোজ জীবনে কোনদিন আওয়ামী লীগ করেননি। তিনি ছিলেন যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর। কুখ্যাত রাজাকার আল বদরদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার বাড়িতে ঢুকে একদল জুলাইযোদ্ধা তাকে প্রথমে হিজাব না পরার কারণে গালাগালি করে, তারপর চুল কেটে দেয়, পেন্সিল দিয়ে তার পায়ে আঘাত করা হয়। বাংলাদেশের কোন পত্রিকা এই নিউজ ছাপেনি। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কেউ এক লাইনও লিখেনি। এই নিউজটা করেছিল ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকা। তারা শিরোনাম করেছিল “Bangladesh 1971 war crimes prosecutor recounts horror: Hair cut, pencil jabbed in leg”
প্রথম আলোর মতিউর রহমান ও মাহফুজ আনাম সেই নিউজ ছাপেনি। এই দেশের মিডিয়া ফ্যাসিবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা ইতমধ্যে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছে। কথা সেটাও না। কথা হচ্ছে তুরিন আফরোজ নারী কিনা? কথা হচ্ছে তিনি যে মতবাদের মানুষই হোন না, তাকে এভাবে অপমান অপদস্ত করা যায় কিনা? বাঁধানের জন্য সংসদে আলাপ হচ্ছে। পরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালিতে ব্যবস্থা নিতে ফোনটোন করেছেন। প্রথম আলো বাঁধনকে নিয়ে সাত থেকে আটটি নিউজ করে ফেলেছে। তাহলে তুরিন আফরোজকে নিয়ে তারা নিউজ করেনি কেন?
সাধারণ ছাত্রলীগ নেত্রীদের মারধোর, জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা, লোহার রড দিয়ে পেটানো, চুল কেটে দেয়ার মত শত শত ঘটনায় আড়াই বছরে মানভোতা নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা মনভোতাবাদীদের ঘুম ভেঙে গেলো কারণ এই মানভোতা কেবল স্বাধীনতা বিরোধীদের জন্য।
হঠাত সবই নারীবাদী হয়ে গেলো কিভাবে? নারী দেহের বিশেষ অঙ্গকে বিকৃত যৌনবিকারগ্রস্তের মত ছিঁড়ে ফেলার মত গালি নিয়ে যে রাজনৈতিক অঙ্গনে হাজির হয়েছিল তাকে ‘শহীদ’ আইকন বানিয়ে হঠাত নারী দরদী হলো কেন? একজন সত্তোধর্ব নারী প্রধানমন্ত্রীর অন্তর্বাস নিয়ে উল্লাস করে আজ একজনকে কোক ছুড়ে মারলে নারী সমাজের হাহাকার অট্টহাসি আনে। আওয়ামী লীগ নাকি সংশোধন হয়নি। তাদের নাকি রাজনীতিতে ফেরানোর কোন সুযোগ নেই। আমার তো এখন আর মনে হয় না আওয়ামী লীগ সহজ কোন পথে রাজনীতিতে ফিরবে। না হলে মইত্তার দোকানপাট কেমন করে আস্ত থাকবে? মনভোতাবাদীদের সবুজ পাইপের প্রতিটি বাড়ি তো হিসেবের বাইরে যেতে পারে না!
-সুষুপ্ত পাঠক
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
