মনজুরুল হক
সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর সবচেয়ে বড় ‘অপরাধ’ তিনি অন্যান্য সাধারণ হিন্দুর মত মা/র খেয়ে ‘ভগবান বিচার করবে’ বলে চুপ থাকেননি। রাষ্ট্রীয় মদদে সনাতনীদের ওপরকার জুলুমের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করেছিলেন। তাই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, এবং পুলিশের ওপর হামলাসহ বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে আড়াই বছর ধরে জেলে আটকে রেখেছে সরকার।
▪️
অথচ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সবই বানোয়াট। প্রধান চারটি অভিযোগের দুটিতে জামিন পেলেও রাষ্ট্রদ্রোহ ও আইনজীবী আলিফ হত্যার মত গুরুতর অভিযোগ বিচারাধীন থাকায় তার চূড়ান্ত জামিন হয়নি।
▪️
২০২৪ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামের একটি সমাবেশে জাতীয় পতাকার ওপর গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করায় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। মামলাটি করেছিলেন চট্টগ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতা ফিরোজ খান যাকে পরবর্তীতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও টেকনিক্যালি এই অভিযোগ প্রমাণিত নয়।
▪️
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার সময় চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ছিলেন পুলিশের লকআপ ভ্যানে, অথচ সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় তাকে অন্যতম আসামি করা হয়।
▪️
সহিংসতা ও ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা ও আক্রমণ এমন তিনটি অভিযোগ যা কখনও প্রমাণের দরকার করে না। আপনি কর্তব্যরত পুলিশের পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও তাদের কাজে বাধা দিয়েছেন মর্মে অভিযুক্ত হতে পারেন।
▪️
চিন্ময়কৃষ্ণের মা আজ মারা গেছেন। তিনি মা জীবিত থাকাকালিন দেখতে পারেননি। মায়ের মৃত্যুর পর প্যারোলে ৫ ঘন্টার জামিন পেয়েছেন।
▪️
চিন্ময়কৃষ্ণের এই ছবিদুটো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বলে। অনেক উত্তর মিলিয়ে নিতে বলে। যে ভারত নিজেদেরকে ‘বিশ্ব সনাতনীদের অভিভাবক’ দাবী করে তারা নাকি ইনুস সরকারকে ‘ভীষণ চাপ’ দিয়েছিল। ইনুস নাকি তাকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। অথচ এ নিয়ে নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহ-এর পরবর্তী কোনও উদ্যোগ নেই।
▪️
বাংলাদেশকে যারা গলার রগ ফুলিয়ে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ’ বলে এবং ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সেক্যুলাররা আবার সহমতে বলে-ঠিক ঠিক ঠিক। সেই তারা গত দুবছরে সনাতনীদের ওপরকার অত্যাচার-নির্যাতন নিয়ে কী করেছেন? লবডঙ্কা। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে-অধিকাংশ নিহতরা এবং আটককৃতরা নিম্ন বর্ণের বলেই কী সকলের এমন নির্লিপ্ততা?
