লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিবাক্য শুনিয়েছি“মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি, বিএনপি কোনো মেগা প্রকল্পে যাবে না।” কিন্তু ক্ষমতায় এসেই সেই ফাঁপা বুলি আর দ্বিমুখী নীতির কুৎসিত রূপ জনগণের সামনে পুরোপুরি উন্মোচিত হয়েছে।
তারেক রহমানের মুখের বুলি বনাম বাস্তবায়নে হরিলুটের উৎসবঃ
তারেক রহমান একদিকে প্রকাশ্যে মেগা প্রকল্পের বিরোধিতা করে মিষ্টি কথা শোনান, আবার অন্যদিকে তাঁর সরকারের অধীনেই একনেক সভায় এক বসাতেই দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের বাজেট বাড়িয়ে দেওয়া হয় ১ লাখ ১০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা।
▶ MRT Line-5 (নর্দান রুট): বাজেট বাড়িয়ে করা হলো ৮৯,৮৪৮ কোটি টাকা।
▶ MRT Line-1: বাজেট একলাফে দাঁড়াল ১,১৪,৩৯৪ কোটি টাকা।
আওয়ামী লীগের আমলে জনগণের জন্য নির্মিত মেট্রোরেলে তথাকথিত ‘দুর্নীতি’র কাল্পনিক গন্ধ খোঁজা গোষ্ঠীগুলো এবং বিএনপির নীতিনির্ধারকরা আজ এত বড় বাজেট বৃদ্ধির সামনে সম্পূর্ণ নীরব কেন? এই হাজার হাজার কোটি টাকার বাড়তি বাজেট শেষ পর্যন্ত কার পকেটে যাচ্ছে?
‘সার্ভে ও কার্ড প্রজেক্ট’-এর নামে দলীয় ক্যাডার লালন-পালনঃ
মেগা প্রকল্প না করার ভান ধরে বিএনপি সরকার পেছনে নিয়ে এসেছে লুটপাটের নতুন নতুন কৌশল। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর জন্য সার্ভে বা জরিপ করার নামে নতুন নতুন ছোট-বড় প্রকল্পের ফাঁদ পাতা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় অর্থের বিনিময়ে বিএনপির নিজস্ব নেতাকর্মী ও পেটোয়া বাহিনীকে এসব ভুয়া প্রজেক্টের কাজ দিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটি মূলত জনগণের করের টাকায় নিজেদের লোক পোষার এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক দুর্নীতি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দৃশ্যমান যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দেশের দীর্ঘমেয়াদী অবকাঠামো তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আজ বিএনপি সরকার কোনো নতুন দৃশ্যমান উন্নয়ন না করেই বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর মেয়াদ ও ব্যয় অন্যায্যভাবে বাড়িয়ে লুটের রাজত্ব কায়েম করেছে বিএনপি।
কথা ও কাজের এই চরম বৈপরীত্যই প্রমাণ করে—তারেক রহমান ও তাঁর দলের মূল উদ্দেশ্য কোনো দেশের উন্নয়ন নয়, বরং ‘কার্ড’ বিতরণ ও অহেতুক বাজেট বৃদ্ধির নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ নিজেদের লোক ও পেছনের দরজার সহযোগীদের পকেটে পৌঁছে দেওয়া। জনগণের চোখের সামনে এই টাকা হরিলুটের হিসাব দেশবাসীকে একদিন দিতেই হবে!
