গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলের শ্রেণিকক্ষে নয়জন কিশোর গলা ছেড়ে বলেছিল, “জয় বাংলা।” সাতজন নবম শ্রেণির, একজন অষ্টম, একজন দশম শ্রেণির ছাত্র। হাতে অস্ত্র ছিল না, মনে ছিল না বিদ্বেষ। অথচ সেই উচ্চারণের দায়ে নয়টি শিশুর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে স্কুল ছাড়ার ছাড়পত্র।
সবচেয়ে ভয়ের কথা বলেছেন প্রধান শিক্ষক নিজেই। স্লোগানের খবর তিনি প্রথম পান গোয়েন্দা সংস্থার ফোনে। আর টিসি দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে। প্রশ্ন হলো, এই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কারা? উত্তর স্পষ্ট: অবৈধ বিএনপি সরকারের প্রশাসন, যে প্রশাসন আজ শিশুর কণ্ঠেও শত্রু খোঁজে। যে সরকার জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট ছাড়া ক্ষমতায় বসে আছে, সে-ই সবচেয়ে বেশি ভয় পায় মুক্তিযুদ্ধের স্লোগানকে।
এই গোপালগঞ্জের মাটিতেই জন্মেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৭ই মার্চের ভাষণ তিনি শেষ করেছিলেন “জয় বাংলা” বলে। সেই ডাকে জেগেছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালি, ত্রিশ লক্ষ শহীদের শেষ নিঃশ্বাসে ছিল এই স্লোগান। আজ তাঁর নিজের জেলায় সেই স্লোগানই শিশুর অপরাধ!
প্রশাসন একে “শৃঙ্খলা ভঙ্গ” বলছে। কিন্তু দেশপ্রেম কবে থেকে বিশৃঙ্খলা হলো? যে সরকার শিশুর স্লোগানে গোয়েন্দা লাগায়, সে আসলে একাত্তরকেই ভয় পায়। তবে ইতিহাস ছাড়পত্রে মুছে যায় না।
এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। শিশুর কণ্ঠ রুদ্ধ করা যায়, একাত্তরকে নয়।
জয় বাংলা
