জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে বাড়িতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। চরম আবহাওয়া, বন্যা, অগ্নিকাণ্ড, সাইবার হামলা কিংবা যুদ্ধের মতো সংকটে দেশের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এক সতর্কবার্তায় জানান, দেশটি এখন এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে শত্রুভাবাপন্ন দেশের হামলা বা সাইবার যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের “আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার” পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হলে ব্যাংক, এটিএম, সুপারমার্কেট কিংবা অন্যান্য জরুরি সেবা কিছুদিনের জন্য অচল হয়ে পড়তে পারে।
সেই লক্ষ্যে সংকটকালীন মুহূর্তে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে ও চাপ কমাতে ব্রিটিশ সরকারের প্রস্তুতকৃত নির্দেশনা পোর্টালে (GOV.UK Prepare) প্রধান ৯টি প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় থাকা ৯টি প্রয়োজনীয় সামগ্রী:
১. টর্চলাইট: বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ব্যবহারের জন্য মোমবাতির চেয়ে নিরাপদ ব্যাটারিচালিত বা উইন্ড-আপ টর্চ।
২. পাওয়ার ব্যাংক: বিদ্যুৎ না থাকলেও মোবাইল ফোন সচল রাখার জন্য পোর্টেবল পাওয়ার ব্যাংক।
৩. রেডিও: জরুরি খবর ও সরকারি নির্দেশনা পাওয়ার জন্য ব্যাটারিচালিত বা উইন্ড-আপ রেডিও।
৪. অতিরিক্ত ব্যাটারি: টর্চ, রেডিও বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যাকআপের জন্য।
৫. ফার্স্ট এইড কিট: ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক, ডিজিটাল থার্মোমিটার, প্লাস্টার, গজ ও চিমটাসহ প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম।
৬. হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ভেজা টিস্যু (ওয়েট ওয়াইপস): পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য।
৭. বোতলজাত পানি: পানীয় জল ও রান্নার জন্য জনপ্রতি প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পানি।
৮. পচনশীল নয় এমন খাবার (টিনজাত খাদ্য): রান্না ছাড়া সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া যায় এমন টিনজাত মাংস, ফল বা সবজি এবং তা খোলার জন্য ‘টিন ওপেনার’।
৯. শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী: ছোট শিশু থাকলে নেপি ও তৈরি বোতলজাত ফমুর্লা মিল্ক।
জরুরি এসব পণ্যের পাশাপাশি সংকটের সময় ব্যবহারের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ঘরে কিছু নগদ অর্থ রাখার জন্যও আলাদাভাবে পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে নাগরিকরা যেন অন্তত কয়েক দিনের জন্য নিজেদের মৌলিক চাহিদা নিজেরাই মেটাতে পারেন।
