২০২২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বের হয়ে আসে আততায়ীর পারিবারিক ইতিহাস। তার মা ইউনিফিকেশন চার্চে পরিবারের প্রায় সব টাকা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ভয়, কঠোর নিয়ম আর মানসিক চাপের মধ্যে বড় হয়েছিল ছেলেটা।
এরপর জাপানে ধর্মীয় পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেকেই মুখ খুলতে শুরু করে। কেউ বলছে নরকের ভয় দেখানোর কথা, কেউ বলছে ধর্মের নামে পড়াশোনা, বন্ধুত্ব, ক্যারিয়ার, এমনকি বিয়ের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করার কথা।
ফলে জাপান সরকার ২০২২ সালের শেষ দিকে পরিষ্কার করে দেয়, বাচ্চাকে নরকের ভয় দেখানো, ধর্মের কারণে তার চিকিৎসা বন্ধ করা, বন্ধু বা শিক্ষকদের শয়তানের অনুসারী বলে ভয় দেখানো, ধর্মীয় কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করা এগুলা ধর্মীয় স্বাধীনতা না, এগুলা শিশু নির্যাতনের অংশ হতে পারে।
আমরা প্রায়ই ধর্মীয় স্বাধীনতা বলতে বুঝি, বাবা-মা যে ধর্মে বিশ্বাস করে, বাচ্চারও সেই ধর্মে বিশ্বাস করতেই হবে। বাবা-মা যেটা পাপ মনে করে, বাচ্চাকেও সেটা পাপ ভাবতে হবে। বাবা-মা যেটাকে হারাম বলে, বাচ্চারও সেটা হারাম মানতে হবে। এমনকি বড় হয়ে নিজের জীবন নিয়ে কী করবে, সেটাও অনেক সময় পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসই ঠিক করে দেয়।
জাপান অন্তত একটা জায়গায় এসে বলেছে, না ভাই। আপনার ধর্ম আপনার স্বাধীনতা। কিন্তু আপনার সন্তান আপনার সম্পত্তি না।
ধর্ম পালন করবেন, করেন। কিন্তু বাচ্চার মাথার ভেতর ভয় ঢুকিয়ে, তার চিকিৎসা বন্ধ করে, বন্ধুত্ব নিয়ন্ত্রণ করে, ভবিষ্যৎ ঠিক করে দিয়ে তারপর সেটার নাম ধর্মীয় স্বাধীনতা দিলে একটু সমস্যা আছে।
ধর্মের স্বাধীনতা সবার থাকা উচিত। বাচ্চাটার নিজের জীবন নিয়ে স্বাধীনতাটাও থাকা উচিত।
এইটুকু বুঝতে পারাটাই সম্ভবত সভ্যতার একটা লক্ষণ।
