চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৬৭ শতাংশ কমেছে। ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইইউর আমদানি দাঁড়িয়েছে ১১.৯৩ বিলিয়ন ইউরো, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৩.৫ বিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ আট মাসে রপ্তানি আয় কমেছে দেড় বিলিয়ন ইউরোরও বেশি।
একই সময়ে ইইউর মোট পোশাক আমদানি কমেছে ৩.৮৩ শতাংশ, যা ৬২.৬৯ বিলিয়ন ইউরো থেকে নেমে হয়েছে ৬০.২৯ বিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে বাজারের গড় পতনের চেয়ে অনেক বেশি হারে। জানুয়ারি-জুলাইয়ে এই পতন ছিল ১৩.৬৫ শতাংশ। আট মাসে কিছুটা কমলেও প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পতনই এখনো সবচেয়ে বেশি।
এ সময়ে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব কমে ১৯.৭৮ শতাংশে নেমেছে, আগের বছর যা ছিল ২১.৫৪ শতাংশ। এতে শীর্ষ সরবরাহকারী চীনের সঙ্গে ব্যবধান বেড়েছে। চীনের সঙ্গে রপ্তানির ব্যবধান ৫.৭৫ বিলিয়ন ইউরো থেকে বেড়ে হয়েছে ৭.৭৯ বিলিয়ন ইউরো।
পরিমাণ ও দামেও পিছিয়ে
আট মাসে বাংলাদেশ ইইউতে ৮৬ কোটি ৬৭ লাখ ৬০ হাজার কেজি পোশাক পাঠিয়েছে, যা আগের বছরের ৯০ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার কেজির চেয়ে ৪.৫৮ শতাংশ কম। প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম ৭.৪৩ শতাংশ কমে হয়েছে ১৩.৭৬ ইউরো, যেখানে ইইউর গড় দাম ১৯.৬৫ ইউরো। প্রধান সরবরাহকারীদের মধ্যে শুধু পাকিস্তানের দাম বাংলাদেশের চেয়ে কম, প্রতি কেজি ১০.৮৮ ইউরো।
বিপরীতে ভিয়েতনামের গড় দাম ১০.১১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রতি কেজি ২৮.৮২ ইউরো। কম্বোডিয়ার দাম ৮.০৫ শতাংশ বেড়ে ১৮.৫৫ ইউরো হয়েছে। চীনের দাম ১.০৪ শতাংশ কমে হয়েছে ১৯.৮২ ইউরো।
চীন-ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি
চীনের রপ্তানি ২.৩৮ শতাংশ বেড়ে ১৯.৭১ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। ফলে ইইউ বাজারে দেশটির অংশ ৩০.৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩২.৭০ শতাংশ। ভিয়েতনামের রপ্তানি ৪.৪৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩ বিলিয়ন ইউরো।
অন্যদিকে অন্য প্রতিযোগীদেরও রপ্তানি কমেছে। তুরস্কের ১১.০২ শতাংশ কমে ৫.১০ বিলিয়ন ইউরো, ভারতের ১০.৮৪ শতাংশ কমে ৩.০৮ বিলিয়ন ইউরো, কম্বোডিয়ার ৪.৫১ শতাংশ কমে ২.৮১ বিলিয়ন ইউরো এবং পাকিস্তানের ৯.৬৩ শতাংশ কমে ২.৩০ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিও কমেছে।
রপ্তানিকারকদের বক্তব্য
রপ্তানিকারকেরা পতনের কারণ হিসেবে চাহিদা কমে যাওয়া, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি সংকটকে দায়ী করেছেন।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, রপ্তানি বাড়ছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে বাংলাদেশ চীন ও ভিয়েতনামের কাছে বাজার হারাচ্ছে। তাঁর মতে, ভিয়েতনাম মানবসৃষ্ট তন্তুর ওপর বেশি নির্ভর করায় উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরি করতে পারছে। এ ছাড়া দেশটির পণ্য বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় ২০ দিন আগে গন্তব্যে পৌঁছায়, যা তাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, প্রতিযোগীদের কম দামে পণ্য সরবরাহের কৌশল বাংলাদেশের রপ্তানিতে প্রভাব ফেলেছে।
ইইউ বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে রপ্তানিকারকেরা প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো নীতিসহায়তা, বাজার ও পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং উদ্ভাবন ও গবেষণায় জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
