বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্রুপের প্রথম কারখানা প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বিশেষজ্ঞদের ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ কারণে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করা হচ্ছে।
গতকাল কারখানার এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরা ৩রা নভেম্বর পর্যন্ত কাজ করব। এরপর থেকে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।’
এর ফলে সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর জীবন পড়েছে অনিশ্চয়তার মাঝে। দেশে বর্তমানে কর্মহীন শ্রমিকের সংখ্যা অর্ধকোটি- এমন বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই জিন্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি। এত বিপুল শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ভাগ্যে কী আছে, কেউ জানেন না।
শ্রমিকরা জানেন না, এই মুহূর্তে তাদের অন্য কোথাও কর্মসংস্থান সম্ভব কি না। বেশিরভাগ কারখানার উৎপাদন কমে গেছে গত দুই বছরে অনেকখানি। কার্যাদেশ হারিয়ে, জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে দেশের অধিকাংশ কল কারখানা। এই মুহূর্তে পরিবার নিয়ে তারা অথৈ সাগরে পড়েছেন।
কারখানার সামনে অসহায় মুখে বসে থাকা শ্রমিকদের সাথে আলাপে উঠে আসে এমন চিত্র।
কারখানা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানবসম্পদ বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পুনরায় তা পরীক্ষা করায়। এতে বুয়েট ও চুয়েটের বিশেষজ্ঞরা ভবনটি ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেন। শ্রমিকদের জীবন ও কারখানার মালামালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করতে হচ্ছে।’
কারখানা বন্ধ হলে শ্রমিকদের অন্য কারখানায় স্থানান্তর না করে ছাঁটাই করা হচ্ছে কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের সব পাওনা পরিশোধ করেই কারখানা বন্ধ করা হবে। পাওনা পরিশোধের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ই নভেম্বর।’
২০২৪-এর ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে জ্বালানি সংকটে উৎপাদন কমতে থাকে কারখানাটিতে। শ্রমিক অসন্তোষ ও গ্যাস সংকটের কারণে একাধিকবার গ্রুপটির কারখানা সাময়িক বন্ধ রেখেছিল কর্তৃপক্ষ৷ তবে এবার বন্ধ হওয়া কারখানাটি পুণ নির্মান না করা পর্যন্ত স্থানী ভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্যাসিফিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীরের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড প্যাসিফিক গ্রুপের প্রথম প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৪ সালে এম নাছির উদ্দিনের হাত ধরে কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে আনুমানিক সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
